হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ১নম্বর উত্তর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন,ওয়ারিশান, চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট,নাগরিক সনদ কার্যক্রমে হয়রানি এবং সেবা প্রত্যাশিদের সাথে অশোভন আচরণের কারনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) এইচ এ এম তৌফিক ইমামের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে জনতা!
শুধু তাই নয়, এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও চলছে তীব্র সমালোচনা।
জানা গেছে, ২৪-শের জুলাই আন্দোলনের পর ইউনিয়ন পরিষদটি চেয়ারম্যান শূন্য হয়ে পড়ে।
দীর্ঘদিন ইউপি সদস্যদের অভ্যন্তরীন গ্রুপিংয়ের কারণে প্যানেল চেয়ারম্যান মনোনীত হয়নি। পরে সেবাপ্রত্যাশিদের দুর্ভোগ নিরসনকল্পে অদ্যাবধি বিভিন্ন কর্মকর্তারা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বানিয়াচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ এনামুল হক।
তবে সম্প্রতিকালে পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এ এম তৌফিক ইমামের অশোভন আচরণ, সেবামূলক কার্যক্রমে জনসাধারণকে হয়রানির কারণে ফুঁসে উঠেছেন ইউনিয়নবাসী।
সোমবার (৪ মে) বিকেলে সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভিডিও বার্তায় ইমদাদুল হক সায়িদ নামে কলেজ ছাত্র ভুক্তভোগী বলেন, মোবাইলে মেসেজ পেয়ে জন্ম নিবন্ধন জনীত কারণে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছে গিয়েছিলেন তিনি। এসময় তার সাথে ধমকের সুরে অশোভন আচরণ করেন ওই কর্মকর্তা।
তাছাড়া ৭দিন পরে এসে নিবন্ধন নিতে হবে বলেও তাকে জানানো হয়। পরে বিশেষ মারফতে তদবির করিয়ে ২০ মিনিটের ভিতরেই তিনি তার নিবন্ধন বুঝে পান। ভিডিওর শেষপ্রান্তে ওই কর্মকর্তার অশোভন আচরণের বিষয়ে আক্ষেপ জানিয়ে দেশবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দাবি করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কলেজ ছাত্রের ভিডিওর মন্তব্যে অসংখ্য মানুষ ওই সচিবের বিরুদ্ধে বিরুপ মন্তব্যের মাধ্যমে তার শাস্তি দাবি করেছেন। তাছাড়া ওই কর্মকর্তার অপসারণেরও দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়রা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কৃপায় বিভিন্ন কর্মকর্তারা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে আমাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। অথচ সেই সেবাকে বিঘ্নিত করতে সেবাপ্রত্যাশিদের সাথে রাজকীয় ভাবসাব নিয়ে অশোভন আচরণ করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব। তার বিতর্কিত কর্মকান্ডে ফুঁসে উঠেছে ইউনিয়নবাসী।
তাছাড়া সঠিক সময়ে অফিসে আসেননা তিনি। এতে সেবাপ্রত্যাশিরা জন্ম নিবন্ধন,ওয়ারিশান সনদ, চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট ও নাগরিক সনদ কার্যক্রম সেবাতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রায় সময় ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের রুমে বিভিন্ন বিতর্কিত ও দালাল শ্রেণির লোকজন আড্ডা মারেন বলেও জানান স্থানীয়রা।
ইতিপূর্বেও ওই সচিব বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য দীর্ঘদিন সাসপেন্ড ছিলেন বলেও জানায় একটি বিশ্বস্ত সূত্র।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) এইচ এ এম তৌফিক ইমাম বলেন, স্বাক্ষরজনীত কারণে ওই কলেজ ছাত্রের বিষয়টি বিলম্ব হয়েছে। তাছাড়া পরিষদের জৈনক উদ্যোক্তার সুপারিশে তার কাজ আমি দ্রত গতিতে করে দিয়েছি।
অশোভন আচরণের প্রসঙ্গে এড়িয়ে যান তিনি।
এমটিআই