তরমুজ চাষে ব্যাপক লোকসানে কৃষকরা দিশেহারা

বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা)

অতি মাত্রায় সার কীটনাশক ব্যবহার, বৃষ্টি এবং ভেজাল বীজের কারণে খুলনার দাকোপে এবছর তরমুজের ফলন তেমন ভালো হয়নি। এ ছাড়া

2026-05-04T10:51:38+00:00
2026-05-04T10:51:38+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬,
২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
  ই-পেপার   
           
বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
তরমুজ চাষে ব্যাপক লোকসানে কৃষকরা দিশেহারা
বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা)
প্রকাশ: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬, ১০:৫১ এএম 
অতি মাত্রায় সার কীটনাশক ব্যবহার, বৃষ্টি এবং ভেজাল বীজের কারণে খুলনার দাকোপে এবছর তরমুজের ফলন তেমন ভালো হয়নি। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দর পতনে এলাকার হাজারো তরমুজ চাষী লোকসানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ফলন কম হলেও গড় হিসাবানুযায়ী প্রায় ১৫৩ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে।   

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় মোট চাষ যোগ্য জমি রয়েছে ২০ হাজার ৮৮৩ হেক্টর। এর মধ্যে এ বছর তরমুজ চাষ হয়েছে ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর বা ৫১ হাজার বিঘা জমিতে। গত বছর তরমুজ চাষ হয়েছিলো ৮ হাজার ১০০ হেক্টরে। 

এ ছাড়া বোরো ধান ৫৯৯ হেক্টর, সূর্য্যমুখি ৮২ ভূট্টা ৮ হেক্টর, বাঙি ৬৫ হেক্টর, গম ২ হেক্টর, মুগ ডাল ৩০ হেক্টর, আলু ১৬০ হেক্টর, মিষ্টি আলু ২২ হেক্টর, শাক সবজি ৯১০ হেক্টর, শরিষা ৫৯ হেক্টর, চিনা বাদাম ২ হেক্টর, পেয়াজ ১৩ হেক্টর, রসুন ১০ হেক্টর, সয়াবিন ২ হেক্টর, মরিজ ৩৭ হেক্টর ও শাম্মাম ১০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১৫ হাজার কৃষক তরমুজের এ আবাদ করেন। এঅঞ্চলের অধিকাংশ কৃষক প্রধান ফসল আমনের পর এ মৌসুমে তরমুজ, সবজিসহ অন্যান্য ফসলের উপর নির্ভরশীল। কৃষকরা এসব ফসল বিক্রি করে সারা বছরের ধার দেনা ও লোনের টাকা পরিশোধ করে সংসার খরচসহ ছেলে মেয়েদের কাপড় চোপড়, স্কুল-কলেজের খরচসহ সকল ব্যায়ভার বহন করে থাকে। 

কিন্তু এবছর অতি মাত্রায় সার কীটনাশক ব্যবহার, বৃষ্টি এবং ভেজাল বীজসহ নানা কারণে তরমুজের ফলন তেমন ভাল হয়নি। তরমুজের ক্ষেত বেচাকেনাও প্রায় শেষ প্রান্তে। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দর পতনে এলাকার হাজারো তরমুজ চাষী লোকসান খেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এদিকে বাজুয়া এলাকার সদ্য গজিয়ে ওঠা একটি চক্র তরমুজ কেনা ব্যাপারীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে বলে ব্যাপক গুণজন চলছে।

সরেজমিনে উপজেলার চুনকুড়ি এলাকার কৃষক অজয় কুমার মন্ডল বলেন, তিনি এবার ৯ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এতে তার ৫০ শতকের প্রতি বিঘায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন হয়েছে খুব কম। সব মিলে তিনি তরমুজ বিক্রি করছেন মাত্র ৫৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন এবছর তার ব্যাপক লোকসান হয়েছে। এতে তার পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালাতে এবং দেনা পরিশোধ খুব কষ্ট হবে। তার মতো একই এলাকার শিবা মন্ডল, অরুন মন্ডল, নিকুঞ্জ মন্ডল, সুনিতা রানী রায়, সন্দিব বিশ্বাসসহ বিভিন্ন এলাকার একাধিক কৃষক তাদের লোকসানের কথা তুলে ধরেন।

চুনকুড়ি এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য কৃষক জীবনানন্দ মন্ডল ও বানিশান্তা এলাকার ইউপি সদস্য জয়ান্ত গাইন জানান, এ বছর অতি বৃষ্টি, ভেজাল বীজ ও ভাইরাসের কারণে তরমুজের ফলন ভালো হয়নি। 

এছাড়া সার ও তেলে দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকের খরচও অনেক বেশি হয়েছে। তাছাড়া পরিবহন খরচ ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং এলাকায় এলাকায় দালালদের দৌরাত্ব, খেয়াঘাটে ও ফেরীতে ব্যাপারীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির কারণে অধিকাংশ কৃষক ব্যাপক লোকসান খেয়ে ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে কি খেয়ে বাঁচবেন এই চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, অতি মাত্রায় সার কীটনাশক ব্যবহার, বৃষ্টি এবং ভেজাল বীজের কারণে এবছর তরমুজের ফলন তেমন ভালো হয়নি। 

এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন খরচ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দর পতনে বিভিন্ন এলাকার তরমুজ চাষীদের লোকসান হয়েছে। তবে ফলন কম হলেও প্রতি বিঘা নিন্মে ১০ হাজার আর সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। গড় হিসাবানুযায়ী প্রায় ১৫৩ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হয়েছে।    

এমটিআই


Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
ফলো করুন: