পিরোজপুরের নেছারাবাদে ২২ বস্তা সুপারি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি উপজেলার ৮নং সমুদয়কাঠী ইউনিয়নে সেহাংগল এলাকায় ঘটেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহিনী জেসমিন আক্তার (২৮) বাদী হয়ে রেজওয়ান আহম্মেদ লিটু সহ ৪ জনকে বিবাদী করে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। একইসঙ্গে মামলার সাক্ষীকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে বিবাদীদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মামলার বিবাদী ঘরের পাশেই খোলা মাঠে সুপারি শুকাতো জেসমিন আক্তার এবং দিনশেষে মামলার বিবাদী রেজওয়ান আহম্মেদ লিটুর ঘরে শুকানো সুপারি বস্তায় ভরে রেখে যেত।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, জেসমিন আক্তার তার স্বামীর সাথে মিলে বিভিন্ন এলাকা থেকে সুপারি সংগ্রহ করে শুকিয়ে বাজারজাত করেন। প্রতিদিনের মতো গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যার দিকে তারা ২২ (বাইশ) বস্তা সুপারি শুকানোর পর স্থানীয় বাসিন্দা রেজওয়ান আহম্মেদ লিটুর বসতঘরে সংরক্ষণ করে বাড়িতে চলে যান।
পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে সুপারি আনতে গিয়ে তারা দেখতে পান ঘরের দরজা তালাবদ্ধ। পরে বিবাদী রেজওয়ান আহম্মেদ লিটু এসে দরজা খুললে জেসমিন আক্তার ও উপস্থিত সাক্ষীরা ঘরে প্রবেশ করে দেখেন, সেখানে রাখা ২২ বস্তা সুপারি নেই। তবে ঘরের দরজা-জানালায় ভাঙচুর বা জোরপূর্বক প্রবেশের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি এবং ঘরের অন্যান্য জিনিসপত্র স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান বিবাদী রেজওয়ান আহম্মেদ লিটু দাবি করেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না এবং হয়তো চোরে সুপারি নিয়ে গেছে। তবে বাদীর অভিযোগ, ঘটনার সময় বিবাদীরা বাড়িতেই অবস্থান করছিল এবং তাদের যোগসাজশেই সুপারিগুলো আত্মসাৎ করা হয়েছে। নিখোঁজ সুপারির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এদিকে মামলার একমাত্র সাক্ষী মোঃ ইউনুস (৪২) অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পর থেকে মামলার ৪নং বিবাদী সাদ্দাম হাওলাদার লোকজন নিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তাকে মামলায় সাক্ষ্য না দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাণনাশসহ মারধরের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এতে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
হুমকির বিষয়ে জানার জন্য সাদ্দামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী জেসমিন আক্তার বলেন, “আমাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিল এই সুপারি ব্যবসা। লিটুর ঘরের পাশেই খোলা মাঠে সুপারি শুকতাম পরে লিটুর অনুমতি ক্রমেই তার ঘরে রেখে যেতাম।
এই ক্ষতির কারণে আমরা আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি। উপরন্তু, সাক্ষীকেও হুমকি দিয়ে মামলাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
স্থানীয় লোকজন জানায়, ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে জেসমিন আক্তার কে সুপারি রাখার জন্য লিটুই বলেছে।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মেহেদী হাসান বলেন, মামলার এক নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদনও করা হয়েছে। তবে সাক্ষীকে হুমকির অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।