সংস্কার কাজ শেষ, বরাদ্দের পরিমাণ জানেন না স্টেশন অফিসার

মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার মদন ফায়ার স্টেশনের সংস্কার কাজের বরাদ্দের সঠিক পরিমাণ জানেন না ঠিকাদার, স্টেশন অফিসার ও নেত্রকোনা উপ-পরিচালক। বরাদ্দের পরিমাণ না

2026-04-27T13:22:13+00:00
2026-04-27T13:22:13+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬,
২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
  ই-পেপার   
           
বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
সংস্কার কাজ শেষ, বরাদ্দের পরিমাণ জানেন না স্টেশন অফিসার
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২২ পিএম 
নেত্রকোনার মদন ফায়ার স্টেশনের সংস্কার কাজের বরাদ্দের সঠিক পরিমাণ জানেন না ঠিকাদার, স্টেশন অফিসার ও নেত্রকোনা উপ-পরিচালক। বরাদ্দের পরিমাণ না জেনেই উপরের নির্দেশে প্রত্যায়ন পত্রে স্বাক্ষর দিয়েছেন স্টেশন অফিসার। 

মদন ফায়ার স্টেশন ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উন্নয়ন শাখা থেকে মদন ফায়ার স্টেশন সংস্কারের কাজ পায় "জোসনার আলো" নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন তৈরি, রান্না ঘর সংস্কার ও রং করণ, গোসলখানা ও শৌচাগার সংস্কার, পানির ট্যাংক ক্রয় ইত্যাদি সংস্কার কাজ বাবদ রবাদ্দ পায় ৬ লক্ষ ৫৪ হাজার ৭শ ৫৫ টাকা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রান্না ঘরের টিন পরিবর্তন করা হয়েছে এবং ভিতরের অংশে রং করা হয়েছে। কিন্তু রান্না ঘরের বাহির অংশে রং করা হয়নি। স্টেশনের চারপাশের দেয়ালের মধ্যে শুধু মাত্র সামনের দেয়ালের বাহির অংশের রং করা হয়। এছাড়াও পানি নিষ্কাশনের জন্য যে ড্রেন তৈরি করা হয়েছে তাও যে খুব বেশি মানসম্মত হয়েছে তা কিন্তু নয়। 

নাম না প্রকাশের শর্তে একজন ফায়ার ফাইটার জানান, 'রান্না ঘরের টিন পরিবর্তন ও ড্রেনের কাজ ছাড়া দেখানোর মতো তেমন কোনো কাজ হয়নি। শুধু শুধু সরকারের টাকা নষ্ট করা হয়েছে।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিকাদার জাকারিয়া জানান, 'যা কথা ছিলো তার চাইতে বেশি কাজ করেছি। সংস্কার কাজের জন্য কতো টাকা বরাদ্দ ছিলো? উত্তরে টিকাদার আমতা আমতা করে বলেন, তিন লাখ বা শ-তিন লাখ টাকার মতো বরাদ্দ ছিলো। বিল উত্তলনে কার কার ক্লিয়ারেন্স লাগে? উত্তরে টিকাদার বলেন, এডি স্যার, ডিডি স্যার ও স্টেশন অফিসারের ক্লিয়ারেন্সে বিল উঠে। কোনো ইঞ্জিনিয়ারের ক্লিয়ারেন্স লাগে না? উত্তরে- অধিদপ্তরের উন্নয়ন শাখা যোগাযোগ করুন এ বিষয়ে আমিন কিছু জানি না।'

স্টেশন অফিসার জমিয়ত আলী সহজবোধ্য ভাষায় গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, 'বরাদ্দের পরিমাণ কতো আমি সঠিক জানি না। শুনছি তিন লাখ টাকার মতো। কি কি কাজ হবে এবং কোন কাজ কতটুকু হবে তাও জানি না। উপরের নির্দেশে, বরাদ্দের পরিমাণ না জেনেই সংস্কার কাজ শেষে প্রত্যায়ন পত্রে স্বাক্ষর করে দিছি। আমাকে উপর থেকে বলা হয়েছে প্রত্যায়নে স্বাক্ষর দিতে, আমি স্বাক্ষর দিয়া দিছি। আমার কাছে কোনো কাগজপত্র নাই। ওয়ার্ক অর্ডার বা কাজের ইস্টিমেটসহ পুরো ফাইল নেত্রকোনা উপ-পরিচালক স্যারে কাছে জমা দিয়ে দিছি। কাজ চলাকালীন সময়ে কাজ বুঝতে কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে গিয়েছিলাম। তিনি নিজেই কাজের কিচ্ছু বুঝেন না, তে আমি কি করে কাজের বিষয়ে বুঝবো ! আমি বরাদ্দ-টরাদ্দ বুঝি না। কাজ শেষ প্রত্যায়নে স্বাক্ষর দিয়া দিছি।'

নেত্রকোনা উপ-পরিচালক জাকির হোসেন জানান, 'মদন স্টেশনে সংস্কার কাজ হয়েছে শুনেছি। এ সব কাজে আমাদের কোনো স্বাক্ষর-টাক্কর নাই। এগুলো স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার দেখাশোনা করে। এছাড়াও অধিদপ্তরের উন্নয়ন শাখার লোকজন আছেন, তারা উন্নয়ন কাজগুলো দেখাশোনা করেন।'


Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
ফলো করুন: