কৃষি নির্ভরশীল মাদারীপুরের জেলার শিবচর উপজেলায় ভূমিদস্যুদের কবলে ফসলীজমি, প্রতিরাতেই কেটে নিয়ে যাচ্ছে কৃষি জমির উর্বর মাটি, বিক্রি করছে ইট ভাটায়। এতে করে একদিকে যেমন ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকরা। চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করতে পারছেনা কৃষক ও জমির মালিক।
এলাকায় জমিগুলোকে টার্গেট করে রাতের বেলায় এক্সকাভেটর ও ট্রাক দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। ভোর হওয়ার আগেই মাটি অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়, ফলে সকালে জমিতে গিয়ে কৃষকরা দেখতে পান বড় বড় গর্ত।
ভুক্তভোগী পাভেল জানান, বছরের পর বছর চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও এখন জমি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী মহলের কারণে তারা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
একজন কৃষক বলেন, “রাতে ঘুমিয়ে থাকি, সকালে এসে দেখি জমির মাটি কেটে নিয়ে গেছে। এখন আর চাষাবাদ করা সম্ভব না। আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি।”
এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী কমিশনার ভূমি জানান আমরা একাধিক বার ড্রেজারে বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করে জেল ও জরিমানা করছে, মামলাও হয়েছে
কাটি কাটা নিষেধ, আমরা ধরতে পারলে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।
স্হানীয়রা বলেন ভূমিদস্যুরা প্রভাবশালী হওয়ায় আইনের তোয়াক্কা করছেনা, এদিকে জমির মধ্যে ড্রেজার বসিয়ে গভীর করে বালু কেটে নিচ্ছে, প্রতিদিন পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর তীর থেকে ব্লক হেড ভরে লক্ষ লক্ষ ফুট বালু মুন্সিগঞ্জ, সদরপুর,শরিয়ত নিয়ে যাচ্ছে ফলে পদ্মায় আড়িয়াল খাঁ প্রতি বছর শত শত একর জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়,
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কৃষি ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে খাদ্য উৎপাদনেও বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্হানীয়রা। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।