চট্টগ্রামে নিউমোনিয়ার প্রকোপ শয্যা সংকটে চমেক ঝুঁকিতে শিশুরা

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

ঋতু পরিবর্তনের প্রভাবে চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এখন উপচে পড়া ভিড়।

2026-04-25T11:38:04+00:00
2026-04-25T11:38:04+00:00
 
  শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬,
২৫ বৈশাখ ১৪৩৩
  ই-পেপার   
           
শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই, শয্যা ভাগাভাগি করে চলছে চিকিৎসা, সচেতনতা ও সঠিক টিকাদানে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
চট্টগ্রামে নিউমোনিয়ার প্রকোপ শয্যা সংকটে চমেক ঝুঁকিতে শিশুরা
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৮ এএম 

ঋতু পরিবর্তনের প্রভাবে চট্টগ্রামে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এখন উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। সম্প্রতি অনেক শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়ার প্রকোপও দেখা দিচ্ছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সরেজমিনে চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগে গিয়ে দেখা যায়,তিল ধারণের ঠাঁই নেই ওয়ার্ডগুলোতে।  সাতকানিয়ার ১৪ মাস  বয়সী শিশু ইসরাত জাহানের -বাবা শহীদু ইসলাম জানান,৩ দিন আগে শ্বাসকষ্ট নিয়ে তারা হাসপাতালে আসেন। প্রথমে সিট না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হলেও পরে একটি সিট তিনজনের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে হয়েছে। এক্স-রে রিপোর্টে রোগীর নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে। তীব্র শ্বাসকষ্টের কারণে সে মায়ের দুধও পান করতে পারছে না। ইসরাত জাহানের মতো অধিকাংশ আক্রান্ত শিশুর বয়স ৫ বছরের নিচে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিশু বিভাগের এক-তৃতীয়াংশ রোগীই নিউমোনিয়া আক্রান্ত। রোগীর চাপ এতই বেশি যে অনেক ক্ষেত্রে অক্সিজেন সেবা নিশ্চিত করতেও বেগ পেতে হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালেও।

চিকিৎসকদের মতে, নিউমোনিয়া মূলত ফুসফুসের একটি প্রদাহজনিত রোগ। চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. বেলায়েত হোসেন জানান, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এই নিউমোনিয়া। তিনি এই রোগের কয়েকটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন,শিশুর জন্মের সময় ওজন কম থাকা।সময়ের আগে (প্রিম্যাচিউরড) জন্ম নেওয়া।ভিটামিন এ-র অভাব।বাবা-মায়ের ধূমপানের অভ্যাস বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ঘনবসতিপূর্ণ ও স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে বসবাস।

তিনি আরও পরামর্শ দেন, জন্মের পর প্রথম ৬ মাস শিশুকে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে, কারণ এতে প্রাকৃতিক ভিটামিন এ থাকে যা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সেঁজুতি সরকার অভিভাবকদের সতর্ক করে বলেন, সর্দি-কাশি ২ থেকে ৪ সপ্তাহে না সারলে এবং কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। লক্ষণগুলো হলো,শিশুর বুক বেশি দেবে যাওয়া।
ঘন ঘন শ্বাস নেওয়া।মায়ের দুধ পান করতে সমস্যা হওয়া।খিঁচুনি হওয়া।

বিশেষজ্ঞরা নিউমোনিয়া প্রতিরোধে তিনটি মূল বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন: নিয়মিত টিকাদান, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং পরিচ্ছন্নতা। সরকারি নির্ধারিত টিকার পাশাপাশি ঘন ঘন সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত শিশুদের ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এছাড়া নগরায়ন ও দূষণের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করতে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে সামাজিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।


Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
ফলো করুন: