পুষ্টিগুণে ভরপুর সবজি সজিনা ডাটা এখন সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অর্থকরী ফসল হিসেবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। একসময় গ্রামীণ বাড়ির আঙিনায় অবহেলা ও অযত্নে বেড়ে ওঠা সজিনা গাছ এখন কৃষকদের কাছে হয়ে উঠছে আয়ের নির্ভরযোগ্য উৎস।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, কাজীপুর, কামারখন্দ, বেলকুচি, চৌহালী, রায়গঞ্জ, তাড়াশও সিরাজগঞ্জ সদরসহ ৯টি উপজেলাতেই বর্তমানে সজিনা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। এসব এলাকায় সাধারণত তিন প্রকারের সজিনা পাওয়া যায়, যার মধ্যে দুটি উন্নত জাত প্রায় সারা বছরই ফলন দিতে সক্ষম। বাজারে এর সরবরাহ ও চাহিদা স্থিতিশীল থাকায় কৃষকদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সজিনা চাষে খরচ তুলনামূলক কম এবং পরিচর্যাও সহজ। নিয়মিত ছাঁটাই ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে বছরে একাধিকবার ডাটা সংগ্রহ করা সম্ভব। ফলে অন্যান্য সবজির তুলনায় কম ঝুঁকিতে অধিক লাভ পাওয়া যাচ্ছে, যা কৃষকদের এদিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে।
সজিনা শুধু ডাটাই নয়, এর পাতা ও ফুলও অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং ঔষধি গুণে ভরপুর। সজিনা পাতায় রয়েছে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রন, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সজিনা পাতা শুকিয়ে গুঁড়া তৈরি করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং তা পুষ্টিকর খাদ্য ও ভেষজ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
পাশাপাশি এটি বাজারজাত করার সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে সজিনার ফুল দিয়েও সুস্বাদু ভাজি ও তরকারি রান্না করা হয়, যা গ্রামীণ মানুষের কাছে পরিচিত খাবার।
জেলার বিভিন্ন গ্রামে বাড়ির আঙিনা থেকে শুরু করে ফসলি জমি, জমির আইল, পুকুরপাড় ও রাস্তার পাশে ব্যাপকভাবে সজিনা গাছ রোপণ করা হচ্ছে। অনেক কৃষক ইতোমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে সজিনা চাষ শুরু করেছেন।
তাদের মতে, সজিনা চাষে রোগবালাই কম, পরিচর্যার ঝামেলা কম এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এটি দিন দিন লাভজনক হয়ে উঠছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, পরিকল্পিতভাবে সজিনা চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে এটি জেলার কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। একই সঙ্গে সজিনা পাতা চূর্ণ প্যাকেটজাত করে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে।
সার্বিকভাবে, অবহেলায় বেড়ে ওঠা সজিনা গাছ এখন সিরাজগঞ্জজুড়ে সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে উঠছে। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও বাজারজাত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা গেলে এই ফসল জেলার কৃষকদের আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।