তীব্র গরমে বিদ্যুতের চরম সংকটে নাকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ। চাহিদার তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ হওয়ায় জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে শহরের দাতিয়ারা এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিতরণ বিভাগ-১) অভিযোগ কেন্দ্রে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষুব্ধ কয়েকজন ব্যক্তি কেন্দ্রটির কাঁচের দরজা ভেঙে ফেলেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা কর্মচারী খলিলুর রহমান একাই উপস্থিত ছিলেন; অন্যরা ফিল্ডে কাজ করছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ১১ মেগাওয়াট। ফলে অধিকাংশ সময়ই বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ৮টি ফিডারের মধ্যে নিয়মিতভাবে ৫টি বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই সংকটের কারণে দাতিয়ারা, কাউতলী, কাজীপাড়া, শিমরাইল কান্দি, কান্দিপাড়া ও পৈরতলাসহ অন্তত ১৭টি এলাকার প্রায় ৭৩ হাজার গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই অবস্থা বিরাজ করছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ বিভাগ-২ এলাকাতেও, যেখানে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী লতিফুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের প্রশ্ন—নিয়মিত বিল পরিশোধের পরও কেন তারা স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন না? অসহনীয় লোডশেডিংয়ের মধ্যে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কবে আসবে—এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র।