সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামের পথে রওনা দিয়েছে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’। মঙ্গলবার সৌদির স্থানীয় সময় রাত তিনটায় (বাংলাদেশের সকাল ৬টা) জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে বলে জানায় ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ মহাব্যবস্থাপক মো. মোস্তাফিজার রহমান। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রামের পথে রওনা দিয়েছে ট্যাংকার জাহাজ। তবে জাহাজটিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসতে হচ্ছে না।
জানা গেছে, দেশে প্রতি বছর ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ বেশি। এদিকে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা হয়। এলপিজি, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেসসহ ১৬ ধরনের তেল জাতীয় পণ্য উৎপাদন করে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে। অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করলে জ্বালানির দাম কম পড়ে, প্রায় ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য পাওয়া যায় এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হয়।
ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ মহাব্যবস্থাপক মো. মোস্তাফিজার রহমান আরো বলেন, ক্রুড অয়েল লোড করে জাহাজটি স্থানীয় সময় রাত তিনটায় চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ১২ দিন পর চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে আশাকরি।
সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে বন্ধ রয়েছে। অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল বোঝাই করা ‘নর্ডিক পোলক্স’ জাহাজটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের ছাড়পত্রের অপেক্ষায় সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অপেক্ষমাণ রয়েছে।এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে ক্রুড অয়েল আমদানির উদ্যোগ নিলেও শেষপর্যন্ত তা দৃশ্যমাণ হয়নি।
জানা গেছে, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এরমধ্যে ৯২ শতাংশ আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। অবশিষ্ট ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া যায়। সরবরাহকৃত জ্বালানির মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল।