ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকায় গভীর রাতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন জেলা জাতীয় ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব মোঃ শিমুল চৌধুরী। মঙ্গলবার (রাত আনুমানিক ৩টা) এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল শিমুল চৌধুরীর বাসভবনে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং শিমুল চৌধুরী ও তার মায়ের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে। দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়। হামলার সময় তার অসহায় মাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হামলাকারীরা ঘরের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং মূল্যবান আসবাবপত্র নষ্ট করে। একই সঙ্গে তারা ঘর থেকে আনুমানিক ৩ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। হামলার সময় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলে, “তুই না ছাত্রশক্তি করছস, আন্দোলন করছস, এনসিপির রাজনীতি করছস, এখন তোকে কে বাঁচাবে?” এমন বক্তব্য স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
আহত শিমুল চৌধুরীকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাত রয়েছে এবং তিনি এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সচেতন মহল এ হামলাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি শুধু একজন ছাত্রনেতার ওপর হামলা নয়, বরং ভিন্নমত দমন, গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে স্তব্ধ করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা।
এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।