সৈয়দপুরের বিহারি ক্যাম্পে বিদ্যুৎ বকেয়া ৬৭ কোটি টাকা, অবৈধ সংযোগ ও সমাধানে অচলাবস্থা

মোঃ আলমগীর হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা

নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিভিন্ন বিহারি ক্যাম্পে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ ব্যবহার হলেও বিল পরিশোধ না হওয়ায় বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭ কোটি

2026-04-21T12:24:30+00:00
2026-04-21T12:24:30+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬,
২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
  ই-পেপার   
           
বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
সৈয়দপুরের বিহারি ক্যাম্পে বিদ্যুৎ বকেয়া ৬৭ কোটি টাকা, অবৈধ সংযোগ ও সমাধানে অচলাবস্থা
মোঃ আলমগীর হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম 

নীলফামারীর সৈয়দপুরের বিভিন্ন বিহারি ক্যাম্পে বছরের পর বছর বিদ্যুৎ ব্যবহার হলেও বিল পরিশোধ না হওয়ায় বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭ কোটি টাকায়। এতে বিদ্যুৎ বিভাগে অচলাবস্থার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) পিএলসি সূত্রে জানা যায়, সৈয়দপুরের বিভিন্ন ক্যাম্পে সরকারিভাবে স্থাপিত ২৪টি বিদ্যুৎ মিটার থেকে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। তবে নিয়মিত বিল পরিশোধ না হওয়ায় চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বকেয়া দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭ কোটি ৬ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার লাভ করেন। এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিহারি ক্যাম্পগুলোর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তবে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, পরবর্তীতে ক্যাম্পবাসীদের নিজ নিজ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে। এ কারণে দিনে দিনে বাড়ছে বকেয়া।

সম্প্রতি সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারি মিটার স্থাপিত থাকলেও ক্যাম্পের ভেতরে ব্যাপকভাবে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চিত্র বিদ্যমান। অনেক ক্ষেত্রে মূল লাইনের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ নিয়ে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব অবৈধ সংযোগ সচল রাখতে কৃত্রিমভাবে লোড ধরে রাখতে সার্বক্ষণিক ফ্যান চালিয়ে রাখা হয়, যাতে হঠাৎ লাইন বিচ্ছিন্ন না হয়। এতে একদিকে যেমন বিদ্যুতের অপচয় বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার যে কোনো সময় অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, মিটারের বাইরে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কোনো নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই, ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্যাম্পের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ছোট ছোট কক্ষে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন বাসিন্দারা। একটি কক্ষেই চার থেকে পাঁচজনের বসবাস। অধিকাংশ ঘরে ফ্যান, লাইট ও মোবাইল চার্জিংয়ের পাশাপাশি টেলিভিশন ও ফ্রিজ ব্যবহারেরও প্রমাণ মিলেছে। তবে এসব সংযোগের বেশিরভাগই মিটারবিহীন এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

নেসকো পিএলসি, সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন,“পুরো ক্যাম্পে কেন্দ্রীয়ভাবে মিটার স্থাপন করা হলেও পৃথকভাবে বাসা ও দোকানে মিটার বসানোর উদ্যোগ নিলে প্রায়ই বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অনেক সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যার ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে হয়। এ কারণে সেখানে নিয়মিতভাবে মিটার স্থাপনের কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।”

তিনি আরও বলেন,“ধাপে ধাপে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে মিটার স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। তবে বাসাবাড়ি পর্যায়ে এখনো প্রতিনিয়ত বাধার সম্মুখীন হচ্ছি, যার ফলে কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। এরপরও আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিন বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রবণতা থেকে সরে না আসায় সমস্যাটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং এর সমাধানে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”



Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
ফলো করুন: