হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সরকারী কলেজের লাগোয়া জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবের ফাঁদে পেলে পানির নীচে জমি ক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে নানা প্রতিক্রিয়া। এ নিয়ে অনুসন্ধানে নামে ভোরের ডাক প্রতিনিধি। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৫ আগষ্ট ২০২৫ সালে লাখাই মুক্তিযোদ্ধা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হামজা মাহমুদ এক পত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবর কলেজের লাগোয়া জমির এস এ খতিয়ান নং ১১১৩ দাগ নং ৬৩৯ আর এস খতিয়ান নং ১/১ দাগ নং ৯৫৪ জমির অধিগ্রহণ করার প্রস্তাব পাঠানো হয় এবং জমির মালিক শিক্ষক সুরঞ্জন দেব নাথ কে অধিগ্রহণের প্রস্তাবের কপি দেয়া হয়। এই প্রস্তাবের ফাঁদে পেলে ওই জমি কলেজের অধ্যক্ষ সহ ৯ জন মিলে সুকৌশলে ৭০ হাজার টাকা শতক ধরে ৫০ শতক জমি রেজিষ্ট্রি দলিল মূলে বাগিয়ে নেন। বিষয়টি জানা জানি হয়ে গেলে বামৈ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহ বামৈ গ্রামবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয় দেখা দেয়। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ও ফেইসবুক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে প্রচার হলে বিষয়টি নিয়ে আরও জটিলতা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ হামজা মাহমুদ বলেন আমি সহ ৫ জন মিলে ওই জমি থেকে কলেজে মসজিদে দান করে দেয়ার উদ্যোশ্যে ক্রয় করেছি এবং বাকি ৪৫ শতক জমি কলেজের প্রভাষক ও কর্মচারী সহ ৯ জনে ৪৫ শত জমি ক্রয় করছেন। ওই জমি অধিগ্রহণের জন্য আপনি প্রস্তাব করে আপনার ওই জমি কিনতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি প্রশ্নের উত্তর এরিয়ে বলে জমির মালিক বিক্রি করছে তাই কিনেছি। এ বিষয়ে বামৈ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী আজাদ হোসেন বলেন, অধ্যক্ষ নিজে অধিগ্রহণের প্রস্তাবের ফাঁদে পেলে জমি ক্রয় করছেন বিষয়টি কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
এ ছাড়া ওই কলেজ প্রতিষ্টাকালীন সময়ে বামৈ গ্রামবাসী জমি জমা টাকা পয়সা দিয়ে কলেজ প্রতিস্টা করা হয়েছে। অপর দিকে কলেজের লাগোয়া জমি কলেজের জন্য অদূরভবিষ্যৎ কলেজের আশ পাশের জমি প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। সেই ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ ও প্রভাষক সহ ৯ জনে মিলে জমির মালিক কে ফাঁদে পেলে জমি ক্রয়ের বিষয়টি আদৌ মেনে নেয়া যায় না।
তবে এই বিষয়টি নিয়ে যে কোন সময় আন্দোলন হতে পারে। এ বিষয়ে জমির মালিক সুরঞ্জন দেব নাথ বলেন আমার পিতা যতিন্দ্র দেব নাথ আমার দাদার মৌরসি জোত সত্ব জমির মালিক থাকিয়া মৌখিক বাটোয়ারা মূলে ওই জমিটি আমার পিতার অংশে পরে। তবে গত সেটেলমেন্ট জরিপে আর এস খতিয়ান ভুক্ত হলে এস এ খতিয়ানবলে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি অফিস মিস কেইসের মাধ্যমে অবমুক্ত করে আমার পিতার নামে নাম জরী করা হয়। পরবর্তীতে আমার পিতা মারা যাওয়ার পর আমার নামজারী করে কলেজের অধ্যক্ষ সহ ৯ জনের কাছে ৭০ হাজার টাকা শতক দরে বিক্রি করেছি। খোঁজ নিয়ে জানা যায় কলেজের অধ্যক্ষ গংরা ৯৫ হাজার টাকা শতক দরে রেজিষ্ট্রি কবলা সম্পাদন করে ক্রয় করছেন।
এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া। যে কোন সময় সামাজিক ভাবে আন্দোলন ডাক আসতে পারে বলে ধারণা করছেন উপজেলার সুশীল সমাজ।