বগুড়ার আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাস, ঐতিহ্য রক্ষা এবং অবহেলিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা সংস্কারের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি বিশেষ প্রস্তাবনা উপস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ‘বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদ’।
এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে শহরের টিএমএসএস মহিলা মার্কেট হলরুমে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বগুড়া ইতিহাস চর্চা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম রাজিউল্লা’র সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। তিনি বলেন, “বগুড়ার কৃতি সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরেই এই অঞ্চলের দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটবে। বগুড়ার অভূতপূর্ব উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।”
সভায় বক্তারা বগুড়া বিলুপ্ত নবাববাড়িসহ জেলার শতাধিক জরাজীর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা দ্রুত সংস্কার ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, জাতির সঠিক ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের তথ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ইতিহাস চর্চা পরিষদের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিষদের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবর রহমান, টিএমএসএস-এর প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপিকা ড. হোসনে আরা বেগম, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মশিয়ুর রহমান এবং বগুড়া সরকারি মজিবুর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. বেলাল হোসেনসহ আরও অনেকে। সভায় বগুড়ার সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ক মূল প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন পরিষদের নির্বাহী সদস্য ড. মতিউর রহমান।
শিক্ষাবিদ, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সংগৃহীত মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করে দ্রুতই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পেশ করা হবে। টিএমএসএস-এর নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম আশা প্রকাশ করেন, এই পরিষদ যেন আগামীতে সকল একাডেমিক ও ঐতিহাসিক গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।