গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের যোগীরছিট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাখাওয়াত হোসেনকে দীর্ঘ ৩৭ বছরের কর্মজীবন শেষে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে রাজকীয় বিদায় দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি মুহূর্তেই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ঘোড়ার গাড়িতে করে তাকে তেলিহাটি ইউনিয়নের নিজ বাসভবনে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় লোকজন প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানান।
জানা যায়, সাখাওয়াত হোসেন যোগীরছিট উচ্চ বিদ্যালয়ে টানা ৩৭ বছর শিক্ষকতা করেছেন। এর মধ্যে তিনি প্রায় পৌনে তিন বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘদিন সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাওরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবদুল হাই। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রিয় শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, সাখাওয়াত হোসেন শুধু একজন শিক্ষক নন, তিনি ছিলেন একজন অভিভাবকের মতো। যে কোনো সমস্যায় তার কাছে গেলে তিনি আন্তরিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করতেন।
সহকর্মীরা বলেন, নীতির প্রশ্নে আপসহীন ও মানবিক গুণাবলির জন্য তিনি সবার কাছে অনুকরণীয় ছিলেন। তার বিদায়ে বিদ্যালয় পরিবার একজন আদর্শ শিক্ষককে হারালো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, “পৃথিবীর সকল শিক্ষকের বিদায় যেন এমন সম্মানজনক হয় এবং তাদের অবসর জীবন হোক মঙ্গলময়।”
বিদায় বক্তব্যে আবেগাপ্লুত সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “এই বিদ্যালয়ই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। আমি সবসময় ন্যায়ের পথে থাকার চেষ্টা করেছি। সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সবার মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং প্রিয় শিক্ষকের বিদায়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন অনেকেই।