ধ্বংসের মুখে শেরপুরের গারো পাহাড়: নির্বিচারে গাছ চুরি ও বন উজাড়ের মহোৎসব

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুর সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক বনাঞ্চল এখন ধ্বংসের পথে। বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পাহারার দায়িত্বে থাকা অংশীদার/উপকারভোগীদের

2026-04-15T16:20:44+00:00
2026-04-15T17:21:07+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬,
২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
  ই-পেপার   
           
বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
ধ্বংসের মুখে শেরপুরের গারো পাহাড়: নির্বিচারে গাছ চুরি ও বন উজাড়ের মহোৎসব
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২০ পিএম  আপডেট: ১৫.০৪.২০২৬ ৫:২১ পিএম
শেরপুর সীমান্তঘেঁষা গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক বনাঞ্চল এখন ধ্বংসের পথে। বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পাহারার দায়িত্বে থাকা অংশীদার/উপকারভোগীদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে কয়েক হাজার একর সংরক্ষিত শাল-গজারি বাগান ও সরকারি বনভূমি এবং সৃজিত বাগান এখন বৃক্ষশূন্য হওয়ার পথে। সম্প্রতি পাহাড়ে গাছ কাটার মহোৎসব শুরুর গত দুই দিনে পৃথক অভিযানে গাছ ও সরঞ্জামসহ দুই বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে বলে বন বিভাগ জানায়। তবে সচেতন মহলের দাবি, এই অভিযান কেবল ‘আইওয়াশ’ ছাড়া আর কিছুই নয়। 

জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় দলীয় কাঠ চোরদের সৃজিত বাগানের অংশীদার করার পর থেকেই তাদের ছত্রছায়ায় গারো পাহাড়ে গাছ চুরির সিন্ডিকেট অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। বর্তমান সময়ে প্রশাসনিক ডামাডোল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওই সব বনদস্যুরাই দ্বিগুণ উৎসাহে আবারো মেতে উঠেছে। 

তারই ধারাবাহিকতায় রাংটিয়া রেঞ্জের গজনী বিটের একটি সামাজিক বনায়নের বাগান থেকে উপকারভোগী ফয়জুদ্দিন ও তার সহযোগী সামেদুল প্রায় ১০টি আকাশমণি গাছ কেটে পাচারের চেষ্টা চালায়। সৃজিত বাগান কমিটির সভাপতি দুলাল মন্ডল জানান, ফয়জুদ্দিন বাগানের অংশীদার হয়েও গোপনে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার কাঠ বিক্রি করে রাতের আঁধারে পাচার করেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন গজনী বিট কর্মকর্তা আবু সালেহীন।
 
 শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ি রেঞ্জের বিট এলাকায় বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে জজ মিয়া (৫০) ও জুমুর আলী (৪০) নামে দুই পেশাদার গাছ চোরকে আটক করে। বালিজুড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা সুমন মিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে ১০ ঘনফুট কাঠ, করাত, দা এবং পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটো ভ্যান জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় চক্রের মূল হোতা লাল চান বাদশা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। বন বিভাগের এই অভিযানকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তাদের মতে, মূল হোতারা সবসময়ই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায় কি যেন অদৃশ্য শক্তির ইশারায়। 

অভিযোগ উঠেছে যে, দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বন বিভাগের দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তারা নিজেদের পিঠ বাঁচাতে রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেলেছেন। এতদিন যারা বনের গাছ নিধনে পর্দার আড়াল থেকে সক্রিয় সহযোগিতা করতেন, তারাই এখন লোকদেখানো অভিযানে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। অথচ ২২ হাজার একর বনভূমির বিশাল একটি অংশ এখন মরুভূমিতে পরিণত হতে চলেছে। সংরক্ষিত শাল ও গজারি বনের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ায় বাস্তুচ্যুত হচ্ছে বন্যপ্রাণীরাও, যার ফলে প্রায়ই লোকালয়ে হাতির আক্রমণের মতো ঘটনা ঘটছে। 

ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, পাহাড়ি এলাকায় বনজ সম্পদ রক্ষায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং আইন অমান্যকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আল-আমিন প্রতিনিধিকে বলেন, "বনভূমির গাছ কাটা রাষ্ট্রীয় সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি। স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বন আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"


Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
ফলো করুন: