গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর থামিয়ে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ প্রি-পাইলটিং প্রকল্প ও কৃষিমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিকে সকাল থেকেই টঙ্গীর বিআরটি প্রকল্পের উড়ালসেতুর স্টেশন রোড এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে অবস্থান নেন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সেখানে পৌঁছালে নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা গাড়িবহরের গতি রোধ করে দাঁড়িয়ে পড়েন এবং বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে নূরুল ইসলাম সরকারের ছেলে সরকার শাহনূর ইসলাম রনি বলেন, আমার বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ। তাঁকে মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী রাখা হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে শুধু এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চেয়েছি যে, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যদি আমার বাবা নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে যেন তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় গাজীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় নূরুল ইসলাম সরকারকে আসামি করা হয়। একই বছরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে এ মামলায় হাইকোর্ট ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং কয়েকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। নূরুল ইসলাম সরকার প্রথমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে আদালতে আপিল করলে আদালত তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মামলার রায়ে সাজাপ্রাপ্ত নয়জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।