জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় গত এক মাসে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ২২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে ১১ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া অপরাধের ধরন ও গুরুত্ব বিবেচনায় ১ জনকে সর্বোচ্চ দুই মাস পর্যন্ত সাজা প্রদান করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে আটক আসামিদের কাছ থেকে মোট ২৯১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যা একটি নিয়ন্ত্রিত মাদকজাতীয় ওষুধ হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই ধরনের ওষুধের অপব্যবহার দিন দিন বাড়ছে, যা তরুণ সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।
কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও আমরা কাজ করছি, যাতে তরুণরা মাদকের ক্ষতি সম্পর্কে অবগত হয়।”
তিনি আরও জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ মাদক সংক্রান্ত তথ্য জানলে তা গোপনীয়ভাবে পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশের ধারাবাহিক এসব অভিযানে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে মাদক প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও গ্রেফতারকৃত আসামি আদালত থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এতে অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি সুফল অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করেন তারা।
এ কারণে মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনগত প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং কার্যকর নজরদারি বাড়াতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।