ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য সকল হাটবাজারকে ইজারামুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগে উপজেলা ও পৌরসভার আওতাধীন হাটবাজারগুলোতে আর কোনো খাজনা বা টোল আদায় করা হবে না। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পরিবহন থেকেও টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলায় মোট ৬১টি হাটবাজার থাকলেও নদীভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে ২টি বাজার বিলীন হয়ে গেছে এবং আরও ৩টি বাজার কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। ফলে বর্তমানে সচল হাটবাজারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬টি। এসব হাটবাজার থেকে সরকারের নির্ধারিত বার্ষিক রাজস্ব ছিল ৮২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫০ টাকা।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই রাজস্বের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ জামানত, ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ৫ শতাংশ আয়কর যুক্ত হয়ে মোট প্রায় ১৬ লাখ ৫১ হাজার ২৫০ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করতে হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই পুরো অর্থ নিজ উদ্যোগে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন। এছাড়া চরফ্যাশন পৌরসভার আওতাধীন ১৩টি বাজারের জন্য জামানত, ভ্যাট ও আয়কর বাবদ প্রায় ১ কোটি ২ লাখ টাকাও তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিশোধ করেছেন বলে জানা গেছে। ফলে হাটবাজারগুলো সম্পূর্ণভাবে ইজারামুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় শুধু হাটবাজার নয়, বিভিন্ন ধরনের পরিবহন থেকেও টোল আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বোরাক, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, ট্রাক, টলি, সিএনজি, নসিমন এবং ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। এতে করে পরিবহন খাতে কর্মরত শ্রমিক ও চালকরাও সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাটবাজারে ইজারা ও খাজনার চাপ তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ হবে এবং পণ্যের দামও কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, “আগে প্রতিদিনই খাজনা দিতে হতো, এতে লাভের অংশ কমে যেত। এখন ইজারামুক্ত হওয়ায় আমরা কিছুটা স্বস্তিতে ব্যবসা করতে পারবো।
অন্যদিকে এক ভ্যানচালক জানান, পরিবহনে টোল বন্ধ হওয়ায় আমাদের আয় বাড়বে, পরিবার চালাতে সুবিধা হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, উপকূলীয় এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক চাপ কমাতে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখবে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনপ্রতিনিধির এমন জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং অন্য এলাকাগুলোর জন্যও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের জনকল্যাণ মুলক মানবিক দৃস্টান্ত ভবিশ্যতে অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।