বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। আজ রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ে এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় দুই দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নানাবিধ ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সাথে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের অন্যতম প্রধান ও নির্ভরযোগ্য গন্তব্য। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং ইউরোপীয় দেশগুলো পারস্পরিকভাবে লাভবান হতে পারে।" তিনি স্বীকার করেন যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বর্তমানে কিছু নন-ট্যারিফ বাধা বিদ্যমান রয়েছে। তবে এই বাধাগুলো দ্রুত অপসারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বিত আলোচনা শুরু করেছে বলে তিনি রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করেন।
মন্ত্রী বিশেষ করে জার্মানিকে বাংলাদেশের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ও লেদার (চামড়া) খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে বর্তমানে চমৎকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে এবং সরকার এ লক্ষ্যে বহুমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ নতুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী শ্রমবাজারে যুক্ত হচ্ছে, যাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিদেশি বিনিয়োগ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জবাবে জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ জানান, জার্মানি বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি মূলত বাজারমুখী খাতে দক্ষতা উন্নয়ন (স্কিল ডেভেলপমেন্ট) এবং সম্ভাবনাময় নতুন বাজার তৈরিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে একটি সমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বা 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরবর্তীতে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, সুইডেনের সাথে বিদ্যমান নন-ট্যারিফ বাধাগুলো অপসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
সুইডিশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির প্রশংসা করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, টেলিকম খাতে সুইডেন বিশ্বে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই খাতে তাদের বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের বিকাশমান টেলিকম খাতে সুইডেনের বিনিয়োগের গভীর আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আলোচনার ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক দূরত্ব ঘুচবে এবং নতুন বিনিয়োগের দ্বার উন্মোচিত হবে।