গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর প্রতিবেশীকে ফোন করে লাশ উদ্ধারের অনুরোধ জানিয়ে পালিয়ে গেছেন স্বামী। শনিবার (১২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা গ্রামের জংলাপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে ঝর্ণা আক্তার (১৬) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, নিহত ঝর্ণা আক্তার জংলাপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় দুই বছর আগে পরিবারের অমতে মো. অপু নামের এক যুবককে বিয়ে করেন তিনি। অপু পেশায় তাকওয়া পরিবহনের একটি মিনিবাসের চালক। বিয়ের পর থেকে তারা মাসুদ মিয়ার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন।
বাড়ির মালিক লাভলী আক্তার বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় অপর ভাড়াটিয়া মোসা. তানিয়াকে ফোন করেন অপু। ফোনে তিনি জানান, তিনি তার স্ত্রীকে হত্যা করেছেন এবং লাশটি উদ্ধার করতে বলেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে তালাবদ্ধ ঘরের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের বাবা হামিদুল ইসলাম বলেন, “দুই বছর আগে তারা নিজেরাই বিয়ে করে। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে ঝর্ণার কোনো যোগাযোগ ছিল না। শনিবার রাতে মেয়ের মৃত্যুর খবর পাই। আমরা ধারণা করছি, অপুই তাকে হত্যা করেছে।” তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত স্বামী অপু পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।