দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলায় পৃথক অভিযানে দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথর ও শ্বেত পাথরের ৩টি মূর্তি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, সীমান্ত দিয়ে মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের নেতৃত্বে ১১ এপ্রিল ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত দিনাজপুরের বিরল ও ঠাকুরগাঁও সদর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) সহায়তা প্রদান করে।
অভিযানকালে ২ জনকে আটক করা হয়। তারা হলেন, দিনাজপুরের বিরল উপজেলার গৌরিপুর গ্রামের শ্রী সুমন চন্দ্র দেব (৩০) এবং ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল হাই (৬৫)।
আটকদের কাছ থেকে ৯.৫৪ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি এবং ৪৫.৩৭ কেজি ওজনের শ্বেত পাথরের একটি শিব মূর্তি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দিনাজপুরের বীরগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৩৩.৮৫ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের একটি শিবলিঙ্গ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত প্রত্নবস্তুগুলো রংপুর বিভাগের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে নিশ্চিত করেছে।
বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলোর মোট সিজার মূল্য ৬৬ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় এসবের প্রকৃত মূল্য আরও অনেক বেশি।
আটককৃত আসামি ও উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ রক্ষা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদক, মানবপাচার ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সবসময় সক্রিয় থাকবে।