কৃষি নির্ভর শীল মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার ১৮ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শিবচর শিবচর উপজেলা, চলতি মৌসুমে রসুনের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠ ভরে উঠেছে সাদা রসুনে, কিন্তু বাজারে সেই রসুন বিক্রি করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন চাষিরা।
স্কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আলীমুজ্জামান জানান , অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পরিচর্যার কারণে এ বছর রসুনের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ২৬ শত হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছে, যা কৃষকদের মাঝে আশার সঞ্চার করেছিল।
কৃষকরা আনোয়ার বেপারী জানান, প্রতি বিঘায় রসুন উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা, প্রতি বিঘায়, প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৫০ মন রসুন উৎপাদন হয়েছে, কিন্তু বাজারে পাইকারি পর্যায়ে দাম বর্তমানে ৭শত থেকে এক হাজার যাহার দাম অনেক কম থাকায় উৎপাদন খরচই উঠছে না। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে রসুন বিক্রি করছেন, আবার কেউ কেউ ঘরে মজুত করে রেখেছেন ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশায়।
শিবচরের একাধিক কৃষক বলেন, “ফলন ভালো হওয়ায় আমরা খুশি ছিলাম। কিন্তু এখন বাজারে দাম এত কম যে, খরচই উঠছে না। এতে আমাদের মাথায় হাত পড়েছে।”
এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কমে গেছে। পাশাপাশি সংরক্ষণ সুবিধার অভাব ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবও দাম কমার অন্যতম কারণ।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রসুন সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা ও সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে কৃষকরা ন্যায্য দাম পেতে পারেন। পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগে ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
ফলন ভালো হলেও ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় শিবচরের রসুন চাষিদের মাঝে এখন হতাশা বিরাজ করছে।