বিজ্ঞান মেলায় অনুপস্থিতি: শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ভবিষ্যৎ থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো

কালাই (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা

জয়পুরহাটের কালাইয়ে আয়োজিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় স্টল বরাদ্দ পাওয়ার পরও কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ না করায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি

2026-04-09T18:08:19+00:00
2026-04-09T18:08:19+00:00
  মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬,
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
 
মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
বিজ্ঞান মেলায় অনুপস্থিতি: শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ভবিষ্যৎ থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো
কালাই (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা
বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৮ পিএম 
জয়পুরহাটের কালাইয়ে আয়োজিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় স্টল বরাদ্দ পাওয়ার পরও কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ না করায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানগুলো স্টল ফেলে রাখায় পুরো মেলার পরিবেশ যেন প্রাণহীন হয়ে পড়ে।

দর্শনার্থীদের  ভাষ্যমতে, এটি শুধু আয়োজনের শৃঙ্খলা নষ্ট করেনি, বরং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা প্রকাশের মূল্যবান সুযোগটিও নষ্ট করেছে।

গত বুধবার সকাল ১০ টায় কালাই সরকারি মহিলা কলেজ মাঠে দুইদিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শামীম আরা। 

সরজমিনে গিয়ে দেখাযায়, কালাই সরকারি মহিলা কলেজ মাঠে উপজেলার ৪২ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ২২ টি ষ্টল সাজানো হয়েছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ষ্টল বরাদ্দ থাকলেও ইন্দাহার উচ্চ বিদ্যালয়, বোড়াই রহিমা খাতুন দাখিল মাদ্রাসা, পাঁচগ্রাম জান্নাতী দাখিল মাদ্রাসা, কাঁটাহার রাউফিয়া দাখিল মাদ্রাসা, আর এ মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, কালাই টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ, মাত্রাই বিজ্ঞান ও কারিগরি কলেজ মেলায় প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেননি। তবে কাঁটাহার রাউফিয়া দাখিল মাদ্রাসা দ্বিতীয় দিন আসলেও তারা কোন প্রজেক্ট আনেননি। এছাড়াও কালাই ইসলামিয়া মহিলা মাদ্রাসা প্রথম দিন প্রজেক্ট সহ মেলায় আসলেও দ্বিতীয় দিন আসেনি। 

মেলাকে ঘিরে আরও উদ্বেগের বিষয় হলো— বহুতী আলিম মাদ্রাসা ও নওয়ানা দাখিল মাদ্রাসা দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণ করলেও তাদের পানির অপচয় রোধে সেন্সরের ব্যবহার নামের একটি প্রযুক্তির উদ্ভাবন দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে প্রদর্শন করা হয়েছে। ফলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র উদ্ভাবন দেখানোর সুযোগ কমে গেছে। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হতাশা যেমন বেড়েছে, তেমনি শিক্ষাবিদ ও দর্শনার্থীদের মধ্যেও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অংশগ্রহণ না করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ মেলা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির নানা ধারণা, নতুন উদ্ভাবন, রোবটিক্স, বিজ্ঞানভিত্তিক পরীক্ষণসহ উদীয়মান প্রযুক্তি বিশ্বে কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়—এসব শেখার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারিয়েছে। মেলাটি ছিল হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কৌতূহল, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও প্রযুক্তি ব্যবহার দক্ষতা বাড়ানোর বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু উপস্থিত না থাকায় তারা এ অভিজ্ঞতা গ্রহণ করতে পারেনি।

শিক্ষকরা বলছেন, “এ ধরনের মেলায় অংশগ্রহণ না করলে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া থেকে পিছিয়ে পড়ে। বইয়ের বাইরে বিজ্ঞানের সত্যিকারের রূপ বুঝতে পারে না।”

দর্শনার্থী অভিভাবকরা জানান, “আমরা আশা করে এসেছিলাম সব প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবন দেখব। কিন্তু স্টল খালি থাকা এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানের একই প্রকল্প প্রদর্শন সত্যিই হতাশাজনক।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জাবেদ ইকবাল বলেন,
“যাদের নামে মেলার স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, এদের কেউ অংশগ্রহণ না করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি প্রজেক্ট অন্য প্রতিষ্ঠান প্রদর্শন করতে চাইলে পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তা করা যেতে পারে বলে তিনি জানান।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা'র সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তার নম্বরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা মূলত শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠানের অনীহা এ উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান থেকে বঞ্চিত না হয়।



Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: