চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে বজ্রপাতে তিনটি গরুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুর রহিম তাঁর আয়ের প্রধান উৎস হারিয়ে এখন নিঃস্ব প্রায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে হঠাৎ লোহাগাড়ার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ের সাথে দফায় দফায় তীব্র বজ্রপাত হতে থাকে। রাত আনুমানিক ২টার দিকে চুনতির কৃষক আব্দুর রহিমের গোয়াল ঘরে বজ্রপাত হলে ভেতরে থাকা তিনটি গরু মুহূর্তেই প্রাণ হারায়। বজ্রপাতের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, মৃত গরুগুলোর শরীরের উপরিভাগের চামড়া ঝলসে গেছে।
ভোরে গোয়াল ঘরে গিয়ে প্রিয় গবাদিপশুগুলোর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষক রহিম। তিনি জানান, কৃষিকাজের পাশাপাশি এই গরুগুলোই ছিল তাঁর উপার্জনের মূল ভরসা। অভাবের সংসারে অনেক কষ্ট করে লালন-পালন করা এই পশুগুলোর মৃত্যুতে তাঁর অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। নতুন করে গরু কেনার আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তিনি এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে আশপাশের বাসিন্দারা রহিমকে সান্ত্বনা দিতে ভিড় করেন। এলাকাবাসী জানান, অসহায় এই কৃষকের পরিবারটি এখন পুরোপুরি বিপাকে পড়েছে। ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন। সরকারি সাহায্য পেলে হয়তো এই কৃষক আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে এবং সরকারি সাহায্যের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণে তাকে সহায়তা প্রদান করা হবে।
লোহাগাড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,বজ্রপাতে তিনটি গরু হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। উক্ত কৃষক আবেদন করলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিধি মোতাবেক তার পাশে দাঁড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সকল কৃষককে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি, যাতে গবাদিপশুসহ মূল্যবান সম্পদ নিরাপদ স্থানে রাখা সম্ভব হয়।