সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ আত্মসাৎ, প্রকল্প বণ্টনে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং দরিদ্রদের প্রাপ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে পৃথকভাবে অন্তত ৮টি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন স্থানীয় গ্রামবাসী, মসজিদ ও কবরস্থান কমিটি এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত ইউপি সদস্যরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দ প্রদান করা হয়। নিশ্চিন্তপুর জামে মসজিদের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ লাখ টাকার মধ্যে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হলেও বাকি ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ করেছেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ও গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া। এছাড়া বংশীকুন্ডা বাজার জামে মসজিদের ছাদ মেরামতের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার মধ্যে ৯০ হাজার টাকা মসজিদ কমিটিকে দেওয়া হলেও অবশিষ্ট ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ শাহেবুর আলম ও সাধারণ সম্পাদক এ.বি.এম জুয়েল তালুকদার। অন্যদিকে, বংশীকুন্ডা গ্রামের সার্বজনীন কবরস্থানের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হলেও বাকি ৩৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করেছেন কবরস্থান কমিটির সভাপতি মোঃ ওহেদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মঞ্জু মিয়া। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ আবুল কাশেম, রাজিয়া খাতুন, মোছাঃ মমতা বেগম ও মোছাঃ শামছুন্নাহার অভিযোগ করেছেন, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিলের প্রকল্প বণ্টনে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন প্রতিহিংসামূলক মনোভাব নিয়ে কিছু নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করেছেন, ফলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর জনগণ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
একই সঙ্গে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। ইউপি সদস্যদের দাবি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আংশিক কাজ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং প্রকল্পের হিসাব চাইলে নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারা বর্তমান অনুমোদিত প্রকল্পসমূহের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্প কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ ও প্রাপ্য সুবিধা ফেরতের জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, তার বিরুদ্ধে বর্তমান ইউপি সদস্যসহ বিভিন্ন মহলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তিনি দাবি করেন, সরকারিভাবে যে বরাদ্দ পেয়েছেন, সে অনুযায়ী কাজ করেছেন এবং এখনো কাজ চলমান রয়েছে। তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তার সঞ্জয় ঘোষ বলেন, বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ৮টি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয় গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।