পিরোজপুরের Kawkhali Upazila উপজেলার বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে অবৈধ জাল ব্যবহার করে রেনু ও পোনা মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের চোখের সামনে এসব কর্মকাণ্ড চললেও তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা নদী, কচাঁ নদী, কালীগঙ্গা নদী, আমরাজুড়ির গাবখান চ্যানেল এবং চিড়াপাড়া নদীর চর এলাকায় নিয়মিত চরগড়া নেট জাল ব্যবহার করে রেনু-পোনা নিধন করা হচ্ছে। এছাড়া কালীগঙ্গা নদীতে নদীর এক পাড় থেকে অন্য পাড় পর্যন্ত ৩০–৩৫টি অবৈধ বাধা জাল বসিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, মাছের প্রজনন মৌসুমে জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ এবং রেনু ও পোনা মাছ নিধন সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু অসাধু জেলেদের একটি অংশ কারেন্ট জাল ও সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে মাছের পোনা ও ডিম সংগ্রহ করছে, ফলে মাছের প্রাকৃতিক বংশবৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের বেলাতেই প্রকাশ্যে এসব জাল দিয়ে মাছ ধরা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ কার্যক্রম চলায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা বিষয়টি জানলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে রেনু-পোনা নিধন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের উৎপাদন কমে যাবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। এতে খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে Kawkhali Upazila Administration-এর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জনগণের সহযোগিতা পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
সচেতন মহল অবৈধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান জোরদার, দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে।