ছেলের অপেক্ষায় নিথর হয়ে পড়ে আছে বাবা-মায়ের মরদেহ। দূর প্রবাসে থাকা সন্তানের শেষবারের মতো মুখ দেখার অপেক্ষায় যেন থমকে আছে সময়। এমন হৃদয়বিদারক এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা।
উপজেলার রামভদ্র নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী আফিয়া বেগম রংপুরে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। প্রথমে আনিসুর রহমান ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তার স্ত্রী আফিয়া বেগমও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। একই দিনে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো পরিবার ও এলাকায়।
এদিকে তাদের একমাত্র ছেলে দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাৎক্ষণিক দাফনের পরিবর্তে মরদেহ সংরক্ষণের প্রয়োজন দেখা দেয়। শেষবারের মতো বাবা-মায়ের মুখ দেখার আকুল প্রত্যাশা নিয়ে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। আর সেই অপেক্ষায় নিথর পড়ে থাকে দুইজন মানুষের জীবনের শেষ স্মৃতি—তাদের দেহ।
কিন্তু গ্রামাঞ্চলে মরদেহ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় পরিবারটি পড়েছিল চরম বিপাকে। ঠিক সেই মুহূর্তে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা”।
সংগঠনটির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের একমাত্র ফ্রিজিং কফিনটি দিয়ে মরদেহ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন। এতে করে প্রবাসে থাকা ছেলের জন্য বাবা-মায়ের শেষ দেখা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, এমন দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। সীমিত সামর্থ্য নিয়েও তারা চেষ্টা করেন যাতে কেউ অসহায় অবস্থায় পড়ে না থাকে।
সংস্থাটির সভাপতি কাজী আমিনুল ইসলাম ফকু বলেন, “এ ধরনের ঘটনা আমাদের খুব ব্যথিত করে। একটি কফিন দিয়ে পুরো জেলায় সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও আমরা চেষ্টা করি—কোনো সন্তান যেন তার বাবা-মায়ের শেষ দেখা থেকে বঞ্চিত না হয়।”
এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন সংগঠনগুলোই সমাজে মানবতার আলো জ্বালিয়ে রাখে।