ছোটফেনী নদীর সোনাগাজী অংশে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম ভাঙ্গিয়ে বালু উত্তোলন করছে চরছান্দিয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা আলাউদ্দিন মিন্টু। এতে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছোটফেনী নদী সেতু ও সোনাগাজী-কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক। জেলাপ্রশাসকের নির্দেশনা উপেক্ষা করেই বালু উত্তোলন চলছে দেদারচ্ছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, ছোটফেনী নদী সেতু সংলগ্ন স্থানে সেতুর সোনাগাজী ও মুছাপুর অংশে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খুরশিদ আলমের ভগ্নীপতি ও চরছান্দিয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা আলাউদ্দিন মিন্টু এবং তার সহযোগীরা।
এতে সোনাগাজী- কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মাটি সরে যাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ছোটফেনী নদী সেতু। এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি অভিযান পরিচালনা করে জেলাপ্রশাসন। অভিযানের পর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও বৃহস্পতিবার থেকে ফের বালু উত্তোলন শুরু করে বালুদস্যু মিন্টু। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সে পরিবেশমন্ত্রীর লোক এবং তার নির্দেশে বালু উত্তোলন করছে বলে দাবি করে।
এছাড়া দক্ষিণ চরছান্দিয়া ও চরখোন্দকার এলাকায় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের জমি ও মাছের ঘের দখলের অভিযোগ রয়েছে যুবদল নেতা মিন্টু বিরুদ্ধে।
উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ইমাম হোসেন পবির বলেন, সে দলের সক্রিয় কর্মী, ছাত্রদলের পদে ছিলেন। হঠাৎ ৫ আগস্টের পর দখল, বালু উত্তোলন সহ বহু অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তার কারনে দলের ভাবমুর্তি নস্ট হচ্ছে।
যুবদল নেতা আলাউদ্দিন মিন্টু বলেন, সামনে ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। বালু উত্তোলন নয় বিকি-কিনি করি।
চরছান্দিয়া এলাকার এক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, বালু উত্তোলনের কারনে ছোটফেনী নদীর দুপাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেকোন মুহুর্তে ধসে যেতে পারে ছোটফেনী নদী সেতু।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিগ্যান চাকমা বলেন, ছোটফেনী নদীতে কোন বালুমহাল নেই। সেখানে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে বারবার অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে ফের অভিযান হবে।