বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্ত:জেলা গরু চোর চক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন জসিম উদ্দিন জুয়েল। তিনি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কুশেরঘোপ গ্রামের বুলু মিয়ার ছেলে। রাজশাহীর আসাম কলোনি মহল্লায় অস্থায়ী বসবাস করেন। র্যাব-১২ বগুড়ার পৃথক অভিযানে সংঘবদ্ধ চক্রের সর্দার জুয়েলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া শহরের তিনমাথা এলাকা থেকে তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেখান থেকে উদ্ধার হয় তিন কেজি গাঁজা।
গতকাল শনিবার র্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ জানান, গরু চুরির কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহীর তানোর এলাকায় চোর চক্রের সদস্যরা একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা করে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযানে ধরা পড়ে আন্ত:জেলা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের প্রধান জসিম উদ্দিন জুয়েল (৩৩)।
পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার আরও চারজন- বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার কুশেরঘোপ গ্রামের তারাজুল ইসলাম (৩০), শিবগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম জাহাঙ্গীরাবাদ নয়াপাড়ার সজল মন্ডল (৩৯), একই উপজেলার জীবনপুর দক্ষিণপাড়ার টাইগার সজিব (৩০), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ফুলপুকুরিয়া এলাকার শরিফুল ইসলাম (২৬)। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
গত ০৭ ফেব্রুয়ারি রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ কালুপুর পাইকড়তলা এলাকায় একটি খামার থেকে পাঁচটি ষাঁড় গরু চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি চুরি মামলা দায়ের করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, সেদিন রাতে বগুড়া থেকে কয়েকজন অপরাধী সিএনজি নিয়ে রওনা দেয়। রাজশাহী থেকে ট্রাক নিয়ে যায় চক্রের মূল হোতা জুয়েল। তার সাথে আরও কয়েকজন নওগাঁ, জয়পুরহাট ও চাপাইনবাবগঞ্জ জেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় একত্রিত হয়। গরু চুরি করে ট্রাকে তুলে নেয় এবং পরে বিক্রি করে। বগুড়ায় পুনরায় চুরির প্রস্তুতির সময় চক্রের সদস্য তারাজুল ও সজলকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযানে আটক হয় টাইগার সজিব ও শরিফুল।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বগুড়া শহরের তিনমাথা ফ্লাইওভার আন্ডারপাস এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার করা হয় তিন কেজি গাঁজা। গ্রেপ্তারকৃতরা- কুড়িগ্রাম সদরের চর হরিকেশ মহল্লার আসলাম মিয়া, ফুলবাড়ি অনন্তপুর বেড়াকুটি এলাকার বাবুল হুসাইন এবং নমিজ উদ্দিন। এ তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র) মো. আতোয়ার রহমান।