হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে আজ এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি এবং জাপানের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জাপানের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত সংশোধিত প্রস্তাবনা। দীর্ঘ আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে বিমানবন্দরের ইমবারকেশন ফি (Embarkation Fee), অগ্রিম অর্থ প্রদান (Upfront Payment) এবং রাজস্ব অংশীদারিত্বের (Revenue Share) মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।
বৈঠকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, "দেশের স্বার্থ রক্ষা করার জন্যই আমরা বারবার এক টেবিলে বসছি। আমরা চাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব টার্মিনালটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য চালু করতে।" তার বক্তব্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ ফুটে ওঠে।
এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জাপানি প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনা করে একটি পুনরায় সংশোধিত প্রস্তাব পেশ করতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জাপানের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী।
বৈঠকে উভয় পক্ষই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে পুনরায় সভা আয়োজনের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
জাপানি প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি (SAIDA Shinichi)। এছাড়া জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের (MLIT) সহকারী ভাইস মিনিস্টার রিয়েকো নাকায়ামা (Rieko Nakayama) সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।