জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এনআইডির ১৫ বছরের মেয়াদ শেষ হলে প্রত্যেক নাগরিককে বাধ্যতামূলকভাবে তা নবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নবায়ন ও এনআইডি স্থানান্তরের জন্য অনলাইন আবেদনে কী কী তথ্য দিতে হবে, তা চূড়ান্ত করেছে কমিশন। এ দুই সেবার জন্য আবেদন ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের ১২তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, এনআইডি নবায়নের সময় আবেদনকারীকে নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের এনআইডি-সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিতে হবে। একইভাবে এনআইডি স্থানান্তরের আবেদনেও নির্ধারিত তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এ দুই ধরনের সেবার জন্য আবেদন ফিও নির্ধারণ করেছে কমিশন।
আখতার আহমেদ আরও জানান, ১৫ বছর পরপর এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন বিধান কার্যকর হবে।
সভায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অনলাইনে আবেদন করার পর তদন্ত শেষে আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক নেওয়া হয়। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময়ই তথ্য ও বায়োমেট্রিক একসঙ্গে গ্রহণ করা হবে। পরে তদন্ত শেষে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
এ ছাড়া ভোটার তালিকা ও এনআইডির জন্য তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও ভবিষ্যতে আরও কম বয়স থেকে এ কার্যক্রম শুরু করার সম্ভাবনা যাচাই করছে কমিশন। এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক স্তর—কোন পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে, তা তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরে চূড়ান্ত করা হবে।