ফটিকছড়ি উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটা, পাহাড় ধ্বংস এবং কৃষিজমির উর্বর টপ সয়েল অপসারণ—সব মিলিয়ে পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড যেন কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান ও জরিমানার পরও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় এসব কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম পাইন্দং ইউনিয়নের ফকিরাচান এলাকায় জান্নাত ব্রিক্স সংলগ্ন একটি ছড়া থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে রিয়াজ মাহমুদ (২৫) নামের এক যুবককে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই দিনে লেলাং গোপালঘাটা এলাকা থেকে একটি স্কেভেটর জব্দ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নানুপুর ইউনিয়নের কিপাইত নগর এলাকায় নিয়মিত স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে এসব মাটি ছাড়ালিয়াহাট হয়ে নানুপুরের বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমি ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কাজে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিন রাত ১১টার পর শুরু হয় মাটি কাটার কাজ, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে। পরে ৪ থেকে ৫টি ড্রাম ট্রাকে করে এসব মাটি বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে কাঞ্চননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দিনের বেলাতেই কৃষিজমির উর্বর টপ সয়েল কেটে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “অবৈধ মাটি কাটা, পাহাড় ধ্বংস ও কৃষিজমির টপ সয়েল নষ্ট করার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। যেখানে এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। কেউ এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।