‘শেষ বিদায়ের সহায়’ যে সংস্থাটি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

ভূপেন হাজারিকার সেই কালজয়ী গান, মানুষ মানুষের জন্য...। গানটির সার্থকতা পাওয়া যায় গাইবান্ধার একটি স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের গল্প শুনে। সংগঠনটির নাম

2026-04-02T14:58:43+00:00
2026-04-02T14:58:43+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬,
২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
  ই-পেপার   
           
বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
‘শেষ বিদায়ের সহায়’ যে সংস্থাটি
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫৮ পিএম 
ভূপেন হাজারিকার সেই কালজয়ী গান, মানুষ মানুষের জন্য...। গানটির সার্থকতা পাওয়া যায় গাইবান্ধার একটি স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের গল্প শুনে। সংগঠনটির নাম গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা। প্রায় ছয়বছর ধরে ফ্রিজিং কফিনে বিনামুল্যে মরদেহ সংরক্ষণ করছে সংস্থাটি।বিশেষত বেওয়ারিশ মরদেহ সংরক্ষণে ভুমিকা রাখছে বেশি। ইতোমধ্যে সংস্থাটি মানুষের ‘শেষ বিদায়ের সহায়’ হয়ে উঠেছে।   

গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থা সুত্রে জানা গেছে, সংস্থাটি ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি গড়ে ওঠে। এটির কার্যালয় গাইবান্ধা শহরের ডেভিট কোম্পানিপাড়ায়। সংস্থার উদ্যোগে প্রাথমিকভাবে একটি ফ্রিজিং কফিন তৈরি করা হয়। এসএসএফ পাইপ ও স্টিল দিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে এটি তৈরি করে আনা হয়। এতে খরচ পড়ে প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার টাকা।কফিনের উপরিভাগে গ্লাস এবং নীচে ও চারদিকে স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে। সংরক্ষণের সময় মরদেহের চারদিকে বরফ দেওয়া হয়। এই কফিনে ১২-১৫ ঘন্টা মরদেহ সংরক্ষণ করা যায়।   

প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ১৩ মার্চ পর্যন্ত ফ্রিজিং কফিন ব্যবহার করে ১৮৬টি মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়। বর্তমানে সংস্থাটিতে ১০০ জন সদস্য যুক্ত আছেন। যারা সংস্থাকে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। সংস্থাটি পরিচালিত ‘মরদেহ সংরক্ষণ গাইবান্ধা’ নামে ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ রয়েছে। পেজটি বাংলা ভাষায়  লেখা। সেখানে সংস্থার সাথে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল নম্বর দেওয়া হয়েছে।ফোন করলেই জেলার বিভিন্ন জায়গায় কফিন পাঠানো হচ্ছে।কফিন ব্যবহারের জন্য কোন খরচ বা পারিশ্রমিক নেওয়া হয় না।

সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর গ্রামের ব্যবসায়ী রেজাউল করিম (৫৫) বলেন, ‘জেলা শহর থেকে আমার বাড়ি প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুরে। কয়েকমাস আগে অসুস্থজনিত কারণে আমার মা মারা যান। গভীর রাতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ আনা হয়। এরপর মরদেহ সংরক্ষণ নিয়ে চিন্তায় পড়েছিলাম। পরে ওই সংস্থায় ফোন দিই। ফোন পেয়েই সংস্থা থেকে কফিন পাঠানো হয়। কোন খরচ লাগেনি। প্রায় ১২ ঘন্টা সংরক্ষণের পর মরদেহ দাফন করি’।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ গ্রামের কলেজছাত্র জুয়েল মিয়া (২৫) বলেন, ‘দেড়মাস আগে অঅমার দাদা (৮৫) বাধ্যর্কজনিত কারণে মারা যান। আমার ভাইয়েরা ঢাকায় থাকেন। তাদের কারণে দাদার মরদেহ সংরক্ষণেল প্রয়োজন হয়। পরে আমি সংস্থাটির ফেসবুকের মাধ্যমে যোযোগ করে বিনামুল্যে কফিনটি নিয়ে আসি। এতে দাদার মরদেহ সংরক্ষণ করে দাফন করি’।   
 
গাইবান্ধা নাগরিক পরিষদের আহবায়ক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, গাইবান্ধায় মরদেহ সংরক্ষণের কোন সু-ব্যবস্থা নেই।হাসপাতালগুলোতে হিমঘর নেই। ফলে সাধারণ মানুষকে মরদেহ সংরক্ষণ নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়।এ ক্ষেত্রে গাইবান্ধা নারী ও শিশু কল্যাণ সংস্থাটি বিনামুল্যে কফিন সরবরাহ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।  
 
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা কায়ছার প্লাবন প্রথম আলোকে বলেন,  সাধারণত দেখা যায়, কোন মানুষ মারা গেলে সাথে সাথে দাফন করা হয়ে ওঠে না। ছেলে-মেয়ের অনুপোস্থিতি বা দুরের আত্মীয়-স্বজনদের জন্য দাফনে বিলম্ব হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে ভোররাতে কেউ মৃত্যুবরণ করলে গভীর রাতে মরদেহ দাফন করা হয়ে থাকে। অনেক সময় পরের দিনও দাফন করতে হয়। সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় মরদেহ নষ্ট হয়ে যায়। এই বাস্তবতায় মানবিক মূল্যবোধ থেকে মরদেহ সংরক্ষণের কাজ শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলেছে।

এসব বিষয়ে সংস্থাটির সভাপতি আইনজীবী কাজী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ সংস্থাটি শুধুই একটি সংগঠনের নাম নয়, এটি মানবতার কান্ডারি। অচেনা মানুষের প্রতি যে ভালোবাসা, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ তারা প্রদর্শন করছে, তা গাইবান্ধার সমাজে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। তবে একটি কফিন দিয়ে সড়ক দুঘটনা ও আত্মহত্যাসহ স্বাভঅবিক মৃত্যুতে জেলায় কফিনের চাহিদা মেটানো অনেক সময় অসম্ভব হয়ে ওঠে। এজন্য আরেকটি কফিনের প্রয়োজন হয়ে দাড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন,  মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকা আমাদের প্রথম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে করতেই ছয়  বছর কেটে গেছে। ভবিষ্যতে আমরা একটি বৃদ্ধাশ্রম নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি, যাতে অসহায় প্রবীণ মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে পারি’।


Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : bhorerdakonline@gmail.com, adbhorerdak@gmail.com
ফলো করুন: