রাজশাহীতে ভুয়া চাহিদাপত্রে তেল নিতে গিয়ে ধরা খেলেন ফায়ার সার্ভিসের ৪ কর্মী। অফিসের প্রয়োজন নেই। তারপরও ফায়ার সার্ভিসের ৪ কর্মী ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়েছিলেন অফিসের চাহিদা দেখিয়ে। তাদের সরকারি গাড়িতে থাকা ব্যারেল ও ড্রামে তেল দেওয়াও হয়েছিল। কিন্তু পরে জানাজানি হয় যে, অফিসের নামে নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে তেল নিতে এসেছিলেন। শেষ পর্যন্ত এই তেল আবার ফিলিং স্টেশনে ফেরত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার হাবিব ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা বলছেন, ওই কর্মীরা নিজেদের মোটরসাইকেলের জন্য কৌশলে এভাবে পেট্রোল ও অকটেন নিয়েছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তাদের তিরস্কার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের সতর্ক করার কথা জানিয়েছে পুলিশও।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিসের নওহাটা স্টেশনের সেকেন্ড অফিসার রবিউল আলমসহ চারজন তাদের সরকারি গাড়িতে একটি করে ড্রাম ও ব্যারেল নিয়ে ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে যান। এ সময় রবিউল আলম তার স্বাক্ষরিত একটি চাহিদাপত্রও ফিলিং স্টেশনে দেন। এটি দেখে প্রথমে তাদের ২০০ লিটার পেট্রোল দেওয়া হয়। কিন্তু পরে তারা আরও ১০০ লিটার অকটেন নেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে স্টেশনের ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, অফিসের চাহিদায় কোনো তেল নেওয়া হচ্ছে না। এ সময় এই তেল আবার ফেরত নেওয়া হয়।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাছুমা মুস্তারী বলেন, ‘এ ধরনের কাজ তারা যেন আর না করেন সেভাবে সতর্ক করে তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের তেল দেওয়া হয়নি।’
বিষয়টি নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী রবিউল আলমের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের নওহাটা স্টেশনের ইনচার্জ ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর নিরঞ্জন সরকার বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি। আমি রবিউল আলমকেই দায়িত্ব দিয়ে এসেছি। আমাদের এভাবে তেল নেওয়া হয় না। আসলে ওরা নিজেদের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের জন্য এভাবে চাহিদা দেখিয়ে তেল নিতে গিয়েছিল। কাজটা ঠিক করেননি। আমি ফোনেই বকাঝকা করেছি।’
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহীর সহকারী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি আজই রাজশাহীতে যোগদান করেছি। বিষয়টা জানতাম না। আমাদের নির্দেশনা আছে যে সরকারি গাড়ির যেন অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার না হয়। সেখানে তারা সরকারি গাড়ি নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তেল নিতে গিয়ে ঠিক করেননি। নিজেদের জন্য সরকারি চাহিদা দেখানোও ঠিক হয়নি। বিষয়টি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’