মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় United Arab Emirates যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz পুনরায় পুরোপুরি সচল রাখার বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই এই আলোচনা চলছে।
বিভিন্ন আরব কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমিরাত সরাসরি সামরিক ভূমিকা নেওয়ার উপায় খুঁজছে। যদি এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়, তাহলে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আমিরাতই প্রথম সরাসরি সংঘাতে যুক্ত হতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump মিত্র দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একার দায়িত্ব নয়; এ বিষয়ে অন্যান্য মিত্র দেশগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে।
আমিরাত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবটি পাস হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আন্তর্জাতিক অনুমোদন পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশকে নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের আহ্বানও জানিয়েছে দেশটি, যার লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালী সচল রাখা।
তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, Russia ও China এই ধরনের প্রস্তাবে বাধা দিতে পারে। তারপরও প্রস্তাব পাস না হলেও আমিরাত সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে সমুদ্রের মাইন অপসারণসহ বিভিন্ন সহায়ক সামরিক কার্যক্রম থাকতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালীর কিছু কৌশলগত দ্বীপ—যেমন Abu Musa Island—নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। দ্বীপটি দীর্ঘদিন ধরে Iran-এর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আমিরাত এটির ওপর নিজেদের দাবি করে আসছে।
আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং এই জলপথ সচল রাখা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: Hindustan Times