সারাদেশে জ্বালানি তেলের সংকটের আলোচনা চললেও ঝালকাঠিতে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। জেলার সুগন্ধা নদীর তীরবর্তী তিনটি ডিপোতে পর্যাপ্ত তেল মজুদ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।
জেলার ৮টি পেট্রোল পাম্প নিয়মিত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছে। ফলে হঠাৎ করে কোনো চাপ তৈরি হয়নি। বুধবার (৩১ মার্চ) বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ দিনের মতোই তেল বিক্রি চলছে কোথাও অতিরিক্ত ভিড় বা সংকটের চিত্র নেই।
তবে দু-একটি পাম্পে সাময়িকভাবে অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ থাকলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন চালান আনতে ডিপোতে যান পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
অন্যদিকে, খোলা বাজারে আগের মতো সহজলভ্য তেল এখন কিছুটা কমে গেছে। এতে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে।
বাইক চালক শাওন বলেন, আগে বাজার থেকে সহজেই তেল পাওয়া যেত, এখন আগেই পাম্পে গিয়ে নিতে হচ্ছে। তবে পাম্পে কোনো অনিয়ম নেই।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোর নজরদারি চলছে। প্রতিটি পাম্পে পুলিশি তদারকি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ মজুদ প্রতিরোধ এবং স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বুধবার সরেজমিনে ডিপো এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সুগন্ধা নদীতে জ্বালানি আনলোডের অপেক্ষায় কয়েকটি জাহাজ নোঙর করে আছে। তবে জাহাজ গুলোতে কী ধরনের জ্বালানি রয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে পাওয়া না যাওয়ায় বিস্তারিত তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।
ঝালকাঠি পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর আহসান পারভেজ বলেন,ডিপোতে কোনো ঘাটতি নেই। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মজুদের কারণেই বাজারে সাময়িক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ ও ডিপোর পর্যাপ্ত মজুদের কারণে ঝালকাঠিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।