কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বিস্তীর্ণ ইরি-বোরো ধানের মাঠে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন দোল খাচ্ছে। মাঠের পর মাঠ জুড়ে সবুজের সমারোহ। কৃষক ধান ঘরে তুলতে ধান গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ রবি মৌসুমে ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমি। বোরোর বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০০ হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে ৫৪৯ হেক্টর জমিতে।
এর মধ্যে ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ৮৯, ব্রি ধান ৯২, ব্রি ধান ১০২, ব্রিধান ১১৪, ব্রি ধান ৮১, বিনা ধান ২৪, বিনা ধান ৩৫, ব্রি ধান ২৮, ব্রি ধান ২৯ জাতের বোরো ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে।
সরেজমিন গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে ইরি-বোরো মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক জমিতে সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগে ব্যস্ত সময় পার করছে। তাড়াইল-সাচাইল ইউনিয়নের কালনা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আব্দুল কাদের জানান, ইরি-বোরো মৌসুমে সারের সরবরাহ ব্যবস্থা ভালো থাকায় এবং কীটনাশকের ন্যায্য মূল্য থাকায় এ বছর ধান চাষে আগ্রহী হয়েছি। একই গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম জানান, তিনি এবার সাড়ে ৭০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছেন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায়, সার সংকট না থাকায় এবং সময় মতো সেচ দিতে পারায় বাম্পার ফলনের আশা করছি। আগামীতে সামান্য বৃষ্টি হলে জমিতে রোগ বালাই হবে না, ফলন ভালো হবে।
তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের (পংপাচিহা, পাইকপাড়া, সহিলাটি ও সাচাইল) ব্লকের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরাফাত হোসাইন বলেন, শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল থাকলে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরোর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ধানের বাজার মূল্য ভালো থাকায় এবং সার, কীটনাশকের দাম কম থাকায় কৃষক এবার ধান চাষে আগ্রহ দেখিয়েছে।
তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় জানান, আগামী ১ মাস আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বোরোর বাম্পার ফলন হবে এবং কৃষক পাকা ধান ঘরে তুলতে পারবে। তিনি আরও জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি রবি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ বৃদ্ধির জন্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ করেছে।