হামে নয়, নিউমোনিয়ায় ৫ শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাদেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ

2026-03-30T17:29:50+00:00
2026-03-30T17:29:50+00:00
  রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬,
১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
 
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
হামে নয়, নিউমোনিয়ায় ৫ শিশুর মৃত্যু
চমেক হাসপাতালে চসিক মেয়র
চট্টগ্রাম ব্যুরো
সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৯ পিএম 
সারাদেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের মিজেলস ব্লক পরিদর্শনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে সাংবাদিকদের এমন মন্তব্য করেন। মেয়র বলেন, চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৮ জন শিশুর মধ্যে ১৭ জনই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। মাত্র ১ জন শিশু হাম এবং ১ জন রুবেলায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন,  চট্টগ্রামে এখনও তেমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। সম্প্রতি যে ৫ জন মারা গেছে, তারা মূলত সেকেন্ডারি নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মারা গেছে, হামের কারণে নয়। নিউমোনিয়া গুরুতর হলে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, জ্বর বা গায়ে র‌্যাশ মানেই হাম নয়; অধিকাংশ শিশুই শ্বাসকষ্ট এবং নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জন্য ২০ বেডের নিউনেটাল আইসিইউ এবং পেডিয়াট্রিক আইসিইউ সুবিধা রয়েছে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নিয়মিত ইপিআই টিকার পাশাপাশি ১০ বছর বয়সী মেয়েদের জরায়ু মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে এইচপিভি ভ্যাকসিন এবং ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী ১০ লাখ শিশুকে টাইফয়েড ভ্যাকসিন প্রদান করেছে। চসিকের কাছে পর্যাপ্ত টিকার মজুদ রয়েছে এবং কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানান মেয়র।

মেয়র একজন চিকিৎসক হিসেবে মায়েদের গর্ভকালীন সময় থেকে শুরু করে শিশুর জন্মের পর সকল রুটিন টিকা সময়মতো দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সঠিক সময়ে টিকাদান নিশ্চিত করলে এ ধরনের রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মোহাম্মদ মুছা মিঞা বলেন, হাম সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা কাশি-হাঁচির মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়ার পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি এবং জটিলতা হলে নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো এমএমআর টিকা দিলে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

এর আগে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক বার্তায় জানানো হয়, ২৯ মার্চ রাত ১০টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, চট্টগ্রাম  মা ও শিশু হাসপাতালে ৪ জন রোগী সন্দেহজনক হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এসব রোগীর নমুনা সংগ্রহপূর্বক রোগ নির্ণয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। নিশ্চিত হামে মৃত্যুর কোনও তথ্য দপ্তরে নথিভুক্ত হয়নি।

সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসব নিউমোনিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা বিশেষ কর্নার খোলা হয়েছে।সন্দেহজনক হাম রোগীদের ক্ষেত্রে নমুনা সংগ্রহপূর্বক তা পরীক্ষা করা আবশ্যক।সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিশুদের দুই ডোজ হামের টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ শিশুর জন্মের ৯ মাস পূর্ণ হলে এবং দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয় ১৫ মাস বয়সে। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুরা, যাদের এখনও টিকা দেওয়ার বয়স হয়নি, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা না নেওয়া এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে। পোস্ট-মিজেলস নিউমোনিয়ার রোগী এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হাম হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর জটিলতায় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে। এসব রোগীকে আলাদা ব্যবস্থাপনায় রেখে চিকিৎসা দিতে হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, হামের উপসর্গ থাকা রোগীর অন্যান্য জটিলতায়ও মৃত্যু হতে পারে। আমাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ল্যাব টেস্টে কনফার্ম হওয়া চাঁদপুরের দুই শিশু ঢাকায় মারা গেছে। তবে হামের বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। কারণ অত্যন্ত সংক্রামক এই রোগ একজন থেকে ১৮ জন পর্যন্ত ছড়াতে পারে। ‍

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের জটিলতা নিয়ে শিশু ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। 
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভর্তি হওয়া শিশুদের অধিকাংশই কক্সবাজার অঞ্চল থেকে এসেছে এবং প্রায় সবাই ১৫ মাসের নিচে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো দুই শিশুর বয়স ছয় মাসেরও কম, অর্থাৎ তারা এখনো টিকার আওতায় আসেনি।



Loading...
Loading...

- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: