জয়পুরহাটের কালাইয়ে জ্বালানি তেলের সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। উপজেলার বিভিন্ন পাম্পে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। উপজেলার তিনটি তেল পাম্পে অধিকাংশ সময়ে তালা ঝুলছে, আর তেল থাকা অবস্থায় খোলা থাকলে সেখানে দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টাকার তেল।
জ্বালানি সংকটের সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট তৈরি, অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি কিছু মোটরসাইকেল চালকও ভবিষ্যৎ সংকটের ভয়ে অতিরিক্ত তেল মজুদ করছেন বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় গতকাল রোববার (২৯ মার্চ) জেলা প্রশাসন সাধারণ গ্রাহকদের যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মোবাইল নম্বর প্রদর্শন সাপেক্ষে তেল সরবরাহের নির্দেশ দেয়। এতে সময় বেশি লাগায় নতুন করে তৈরি হয়েছে ভোগান্তি।
পাম্প মালিকদের অভিযোগ—প্রশাসনের ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতার কথা থাকলেও তা বাস্তবে কার্যকরভাবে হচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
জরুরি সেবায় নিয়োজিত মানুষও পড়েছেন বিপাকে। পল্লী প্রাণী চিকিৎসক শফিক মাহমুদ বলেন, “আমাদের কাজটা জরুরি। তেল না পাওয়ায় অনেক রোগী ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এতে শুধু আমরা নই, পশু মালিক ও খামারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
ব্যবসায়ী সুমিত কুন্ড বলেন, “প্রতিদিন ব্যবসার কাজে বাইক নিয়ে বের হতে হয়। কিন্তু যথেষ্ট তেল না পেয়ে সময়মতো ব্যবসা করতে পারছি না। কৃষকদের পণ্য কিনতে দেরি হওয়ায় তারাও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।”
জেলা প্রশাসক মো. আল মামুন মিয়া জানান, “সারা দেশের মতো জয়পুরহাটেও জ্বালানির সংকট দেখা দিয়েছে। পাম্প মালিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তারা যে পরিমাণ সরবরাহ পান, তা যেন নিয়ম মেনে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করেন। কোথাও অনিয়ম বা কালোবাজারির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে জেলার পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি সেবার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বিভিন্ন পাম্পে।