ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মেনংচরি ও বোরাঘাট নদীর বাঁধ ভেঙে ভুবনকুড়া, গাজীরভিটা, ও পৌরশহরসহ একাধিক ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, ফলে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
গতকাল রাতের অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতে স্থানীয় নদীর পানি হঠাৎ উপচে পড়েছে। এতে কালিয়ানিকান্দা, বোয়ালমারাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে।ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নের অন্তত ৬টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। বোরারঘাট নদীর বাঁধ ভেঙে ঢল গ্রামে প্রবেশ করেছে। ফলে বোর ধানক্ষেত, বাদাম, ভুট্টা ও রবি শস্য পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। একপর্যায়ে নদীর বাঁধ উপচে ও ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে আশপাশের গ্রামগুলোতে। মানুষজন বাধ্য হয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোরারঘাট নদীসহ আশপাশের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে বাঁধ উপচে এবং ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। ফলে নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘর ও ফসলের খেতে পানি ঢুকে যায়। অনেক পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি উঠে পড়ায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হঠাৎ এই পানি বৃদ্ধিতে তারা কিছুটা আতঙ্কিত। বিশেষ করে কালিয়ানিকান্দা ও বোয়ালমারা এলাকায় পানির প্রবেশ বেশি লক্ষ্য করা গেছে। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন যে, জমিতে থাকা বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ত্রাণ বিতরণের খবর পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন বলে জানা গেছে। পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও অনেক জায়গায় এখনো জলাবদ্ধতা রয়েছে।স্থানীয়রা দ্রুত বাঁধ মেরামত ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।