চট্টগ্রামের সাতকানিয়া–বাঁশখালী সংযোগ সড়কের পৌরসভা অংশে যানজট, ফুটপাত দখল ও নালা অব্যবস্থাপনার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচলকারী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বড় অংশ এখন অস্থায়ী দোকান ও দখলদারিত্বের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
সড়কের দুই পাশে শত শত অস্থায়ী দোকান বসে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। অনেক স্থায়ী ব্যবসায়ীও তাদের দোকানের সীমানা বাড়িয়ে ফুটপাত পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। ফলে পথচারীদের ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
সড়কের আশেপাশে একাধিক স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ ও মন্দির থাকায় শিক্ষার্থী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যানজটের কারণে পুরো এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
সড়কের পাশের নালাগুলো উন্মুক্ত থাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং অসাবধানতাবশত পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান, নালাগুলো অনেক জায়গায় ময়লায় ভরাট হয়ে গেছে, যার ফলে বর্ষা মৌসুমে বাজার এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইনুছ জানান, সরকারি উদ্যোগে নালা নির্মাণ করা হলেও কিছু অসচেতন দোকানদার সেগুলো ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করছেন। ফলে ময়লা জমে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং বাজারে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, সড়কটি প্রশস্ত করার সুযোগ কম থাকলেও ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং নালার ওপর টেকসই স্ল্যাব বসানো হলে জনদুর্ভোগ অনেক কমে যাবে। বাজার পরিচালনা কমিটি, ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের সমন্বিত উদ্যোগে সমস্যার সমাধান সম্ভব বলেও তারা মনে করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার পরিষ্কারের নামে ড্রেন থেকে তোলা ময়লা অনেক সময় রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয়, এতে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। বাজারের স্থায়ী পরিচ্ছন্নতার জন্য স্থায়ী পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসী জনস্বার্থে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অবৈধ দখলমুক্ত ফুটপাত, নালার ওপর স্ল্যাব স্থাপন এবং বাজার এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ব্যস্ততার কারণে পরে কথা বলার অনুরোধ জানান।