সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার আলোচিত অস্ত্রবাজ রিপন হোসেন (৩২) ওরফে রিপনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। শনিবার (গতকাল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যশোরের নীলগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রিপন হোসেন দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া নোড়ারচক এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় ছয়টি, কালিগঞ্জ থানায় একটি এবং ফরিদপুর ও যশোরের বিভিন্ন থানায় আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে মোট নয়টি মামলা আছে। এ ছাড়া তিনটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি ছিল।
গ্রেপ্তারের পর রাত আটটার দিকে দেবহাটা থানার এসআই দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল তাকে যশোর থেকে থানায় নিয়ে আসে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিপন দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে উপজেলার পারুলিয়ার খলিসাখালী এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ বিঘা চিংড়ি ঘের দখল, লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। এতে প্রায় ৩০০ জন জমির মালিক দীর্ঘদিন জিম্মি অবস্থায় ছিলেন।
পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্থানীয় জমির মালিক ও এলাকাবাসী একত্র হয়ে দখলদারদের প্রতিরোধ করেন। বর্তমানে তাঁরা নিজেদের জমিতে চিংড়ি চাষ চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব জমির আয়ের ওপর স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, রিপন ও তার সহযোগীরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির কারণে আত্মগোপনে থেকে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডির মাধ্যমে জমির মালিক, ঘের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাত।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, রিপনের সহযোগী, অস্ত্র ও মাদক সরবরাহকারী চক্র এবং ভুয়া আইডি পরিচালনাকারীদের শনাক্তে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, দেবহাটা থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যান্য থানার মামলাগুলোর বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তার সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
খলিসাখালী এলাকার জমির মালিক ইকবাল মাসুদ বলেন, ‘রিপন দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্রভাবে জমি দখল, ডাকাতি ও লুটপাট চালিয়ে আসছিল। তাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। তবে তার সহযোগীদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক মজিদ হাজি, আব্দুল আজিজ ও রুহুল আমিনসহ স্থানীয়রা রিপনের সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
রিপনের গ্রেপ্তারে দেবহাটা উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।