সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সকল নদীই শুকনো মৌসুমে ফেটে গিয়ে চৌচির হয় প্রতি বছর। হেমন্তের শুরুথেকেই নদীর পানি কমে গিয়ে বসন্তে নদীর তলদেশ শুকিয়ে ফাটা স্থানে জন্মনেয়া ঘাস গবাদিপশুর খাদ্য যোগায়।
নাব্যতার সংকটের কারণে পাহাড়ি ঢলে নদী ভরাট হয়ে আগাম বন্যায় ফসল তলিয়ে যায় প্রায় বছরেই ভাটি এলাকার মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন হাওর। নদীগুলো খনন কবে আদৌ আর হবে কিনা এমনটাই প্রশ্ন স্থানীয় জনমানুষের মনে। বর্ষায় মধ্যনগরস্থ সুমেশ্বরী নদীতে ভরা যৌবন দেখা দিলেও ভারত মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অসংখ্য ছড়াদিয়ে নেমে আসা বালিতে সকল নদীই ভরাট হয়ে গিয়েছে। নদীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোহনায় জেগেছে বালুময় বিশার চর। চরপড়া বালুময় নদীতে নাব্যতার দরুন পণ্যবাহী নৌযানের ঝটলা বাঁধে প্রায় ৫কিলোমিটার দৈর্ঘের। মধ্যনগরে হুলাকান্দা বাজার থেকে মধ্যনগর সেতু, আখড়াঘাট হয়ে জমশেপুর টানা ঘাট পর্যন্ত রয়েছে বালুময় চর। এসব চরদিয়ে বাজারের বিভিন্ন হাট বসা ও পায়ে হেঁটেও নদী পারাপার হতে দেখা যায় প্রতি বৎসরেই।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন, হাওরাঞ্চলের একফসলি বোর ফসলের ওপর নির্ভর করে কৃষকের ভাগ্য। আগাম বন্যার কবল থেকে রেহাই,নদীপথে যাতায়াত, পণ্য সরবরাহের নৌযান শ্রমিক বাঁচাতে একমাত্র প্রয়োজন দ্রুত নদী খনন। এর কোন কোন বিকল্প নেই। নদী খননের মাধ্যমে ভাটি এলাকার আগাম বন্যা, নৌ যোগাযোগ সহ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কমনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল। বিগত অর্ধশতাব্দীতে অসংখ্যবার খননের আশ্বাস পেলেও হয়নি বাস্তবায়ন। কবে নদী খনন কাৰ্য্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসকল সমস্যা নিরসন হবে কিনা রয়েছে জনমনে একাধিক প্রশ্ন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, পাহাড় থেকে নেমে একাধিক খাল ও নদী খননের প্রস্তাবনা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ভাবে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে সুমেশ্বরী নদীও রয়েছে, অনুমোদন হলেই খনন কাৰ্য্যক্রম শুরু হবে আশা করছি।