ভৈরবে বাবার জন্য দোকান থেকে মিনিট কার্ড কিনে বাড়ি ফেরার পথে পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইমান খান (১৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে ২ জনকে আটক করেছে । বতর্মানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত ইমান খান লুন্দিয়া গ্রামের পাগলা বাড়ির ঈসা মিয়ার ছেলে। তিনি এলাকায় ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে নিজের বাবার মোবাইল ফোনের জন্য মিনিট কার্ড কিনতে বাড়ি থেকে বের হন ইমান খান। তিনি গ্রামের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার পথে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষ শেখ বাড়ির একদল যুবক তার পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমানকে এলোপাথাড়ি আঘাত করে আহত করে ফেলে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে গুরুতর আহত ইমান খান কে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। অ্যাম্বুলেন্স এনে ঢাকার নেয়ার আগেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমাম খানের হাসপাতালে মৃত্য হয়।
এ দিকে স্থানীয়রা আরো জানায়, আগানগর ইউনিয়নের 'পাগলা বাড়ি' ও 'শেখ বাড়ির' মধ্যে গত ৭-৮ বছর ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছে। পাগলা বাড়ির পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আব্দুল মজিদ বড় মিয়া ও শহিদ মিয়া এবং শেখ বাড়ির পক্ষে রয়েছেন মাইনু শেখ ও আক্কাছ শেখ। এর আগেও দুই পক্ষের মধ্যে ৪-৫ বার বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেই পুরনো শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জের সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান পুলিশ। এ বিষয়ে ভৈরব থানার পরিদর্শক তদন্ত ( ওসি)) তালেব হোসেন জানান,ঘটনার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে । এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে । তবে হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখনো কেউ মামলা দায়ের করেনি।