হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌর এলাকায় টোলের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে আটক করা হলেও চক্রের মূলহোতাসহ অন্যান্যরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার মহলুল সুনাম এলাকার বাসিন্দা বৈধ ইজারাদার মো. শহীদুল ইসলাম শহীদ (৩৫) বাদী হয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেন। মামলায় ইয়াছির খাঁন তারেক (৩০) ও জহুরুল ইসলাম আফিল (২৬)-সহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের জন্য শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন হাট-বাজার ও বিভিন্ন যানবাহনে পণ্য উঠানামার টোল আদায়ের বৈধ ইজারা পান বাদী। তবে অভিযোগ রয়েছে, ইয়াছির খাঁন তারেকের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে যানবাহন থামিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে আসছে।
গত ১৬ মার্চ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ-হবিগঞ্জ বাইপাস সড়কের পুরানবাজার এলাকায় ডা. বনজ কুমার হালদারের ফার্মেসির সামনে একটি ট্রাক থামিয়ে অভিযুক্তরা পৌরসভার নামে ১২০ টাকা চাঁদা দাবি করে। ট্রাকচালক টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এর ভিত্তিতে ১৭ মার্চ বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে জহুরুল ইসলাম আফিলকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াছির খাঁন তারেকের নামে ইস্যুকৃত ২৫টি চাঁদার রশিদ এবং বিভিন্ন পরিবহন থেকে আদায়কৃত ৯০৫ টাকা জব্দ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযানের সময় আফিলকে ইয়াছির খাঁন তারেকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলতে দেখা যায়। পরে মূলহোতা ইয়াছির খাঁন তারেক গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌরসভার একাধিক কর্মচারী অভিযোগ করেন, শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি এম এফ আহমেদ অলির ভগ্নিপতি পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াছির খাঁন তারেক পৌর এলাকায় টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি করে আসছে। তারা আরও দাবি করেন, একাধিকবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও প্রভাব খাটিয়ে মুক্তি পেয়ে পুনরায় একই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ওই চক্র।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি এম এফ আহমেদ অলি বলেন, “ইয়াছির খাঁনকে আমি চিনি না। আমার প্রকৃত ভাগ্নে বিদেশে থাকে। চাঁদা আদায় বা গ্রেফতারের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।”
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হোসেন বলেন, “প্রকৃত ইজারাদার শহিদুল ইসলামকে ডাকা হয়েছে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে কেউ টাকা আদায় করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ইজারাদার শহিদুল ইসলাম জানান, “আমি বৈধভাবে ইজারা নিয়েছি এবং এখনও মেয়াদ রয়েছে। কিন্তু আমার অগোচরে ভুয়া টোকেন তৈরি করে ইয়াছির খাঁন চাঁদাবাজি করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়েছি। আশা করছি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ ঘটনায় আমি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছি।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।