হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রিসহ নানা অনিয়মের দায়ে ১১টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানে মোট ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ নিরাপদ খাদ্য আদালত।
শনিবার (১৪ মার্চ) জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নিরাপদ খাদ্য আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাহিদুল আলম এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
অভিযানে সহযোগিতা করেন হবিগঞ্জের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. শাকিব হোসাইন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের সহকারী পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থ, জেলা ও উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর, সহায়ক স্টাফ, র্যাব-৯, শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ, বাহুবল থানা পুলিশ ও হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি দল।
অভিযানকালে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আল-খলিফা রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড কনফেকশনারিতে রান্না করা ও কাঁচা খাবার একসঙ্গে সংরক্ষণ, বাসি খাবার রাখা, পচা শিম ও নোংরা ডিম ব্যবহার, রান্নাঘরে ঢাকনাবিহীন ডাস্টবিন রাখা এবং পোড়া তেল ব্যবহারের মতো বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। এ কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ এর ৫২ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া পানাহার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট মেয়াদবিহীন দই বিক্রি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, বাসি ভাত পুনরায় ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ এবং পোড়া তেল ব্যবহারের অভিযোগে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযানে শাহজালাল ফুডস অ্যান্ড লাইফ বেকারিতে লেবেলবিহীন রুটি, মূল্য তালিকা না থাকা এবং বিএসটিআই লাইসেন্স ছাড়াই খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় নিউ চানমারি রেস্টুরেন্ট নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, ডিমে ময়লা থাকা, পোড়া তেল ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মে ৩০ হাজার টাকা, হাসির বাড়ি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট পোড়া তেল ও ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের দায়ে ৫ হাজার টাকা এবং আল-মদিনা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে নিউ শেরাটন হোটেল বাসি রান্না করা ভাত সংরক্ষণ, অস্বাস্থ্যকর রান্নাঘর এবং নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে পরিচালিত অভিযানে শাহজালাল রেস্টুরেন্ট বালিযুক্ত মুড়ি বিক্রি, রান্না করা খাবার ও কাঁচা মাংস একসঙ্গে সংরক্ষণ এবং পোড়া তেল ব্যবহারের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই বাজারের লোকনাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও বিভিন্ন ধরনের রং ব্যবহারের দায়ে ১০ হাজার টাকা, অতিথি বাড়ি সুইটস মূল্য তালিকা না থাকা ও কম ওজনের মিষ্টি বিক্রির দায়ে ৫ হাজার টাকা এবং মিম কোয়ালিটি ফুডস ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।