ইজারা না থাকলেও দিনে-রাতে সমান তালে অবৈধভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন এবং পরিবহন করার অভিযোগ উঠেছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে হবিগঞ্জ–মিরপুর সড়ক এখন পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটি পরিবহনের সময় সড়কের ওপর মাটি পড়ে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা পিচ্ছিল ও কাদাময় হয়ে যায়, ফলে সড়কটি কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে হবিগঞ্জ–মিরপুর সড়ক দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উন্মুক্ত অবস্থায় মাটি বহন করায় চলন্ত গাড়ি থেকে মাটি সড়কের বিভিন্ন স্থানে পড়ে জমে থাকে। এর ফলে সড়কের উপরিভাগ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং বৃষ্টিপাত হলেই পুরো সড়ক কাদায় পরিণত হচ্ছে। এতে করে যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনের চালকদের জন্য এ সড়কটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ্ছিল কাদা জমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ী নিজেদের স্বার্থে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও পরিবহন করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে এসব কার্যক্রম দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও দাবি করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে এলাকাবাসী বলেন, অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ, পরিবহনের সময় প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন মেনে চলা এবং সড়কে পড়ে থাকা মাটি দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করা জরুরি। এতে করে সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমবে।