পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে একটি সেমাই উৎপাদনকারী কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন ও মোড়কীকরণে জালিয়াতির অপরাধে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে যেসব অনিয়ম পাওয়া গেছে, তদারকি চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কারখানাটিতে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়ম শনাক্ত করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদন: কারখানার অনুমোদনপত্রে প্রশাসনিক অসংগতি ও অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়।
পণ্যের মোড়কীকরণ: ভবিষ্যতের অগ্রিম তারিখ ব্যবহার করে সেমাইয়ের প্যাকেট বাজারজাত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশ: কারখানার শ্রমিকদের কোনো স্বাস্থ্যসনদ ছিল না এবং অত্যন্ত নোংরা ও অপরিষ্কার পরিবেশে সেমাই তৈরি করা হচ্ছিল।
অভিযানে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সাধন সরকার নেতৃত্ব প্রদান করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে সহায়তা করে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নিশাত মেহের বলেন, "ঈদে সেমাইয়ের চাহিদা বাড়ে, আর এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিয়ম না মেনেই পণ্য উৎপাদন করছেন। জনস্বার্থে আমাদের এই তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"
নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সাধন সরকার জানান, খাদ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কোনো আপস করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম পেলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।