মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের তেলখাত যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে—এমন আশঙ্কা দেশটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়-এর ফ্যাকাল্টি অব ওয়ার্ল্ড স্টাডিজের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফোয়াদ ইজাদি এক সাক্ষাৎকারে আল জাজিরা-কে বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা এমন একটি কৌশল নিয়ে ভাবছেন যার মাধ্যমে যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক ক্ষতি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
তার মতে, বর্তমানে ইরানের ভেতরে কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে একটি হলো একটি আঞ্চলিক পুনর্গঠন তহবিল গঠন করা, যেখানে যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দায়ী দেশগুলোকে আর্থিক অবদান রাখতে হতে পারে।
আরেকটি আলোচিত প্রস্তাব হলো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর কর আরোপ করা। ইজাদি বলেন, ইরান অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আর অন্য দেশগুলো স্বাভাবিকভাবে লাভবান হবে—এমন পরিস্থিতি আর মেনে নেওয়া হবে না।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। ফলে এখানে নতুন কোনো কর আরোপ বা বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।