মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলো নিয়মিত নগদ সহায়তা পাবেন। প্রতিটি পাঁচ সদস্যের পরিবারে মা বা জ্যেষ্ঠ নারী সদস্যের নামে কার্ড ইস্যু করা হবে। কর্মসূচির লক্ষ্য নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়ন।
মন্ত্রী জাহিদ হোসেন আজ (৮ মার্চ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, পাইলট পর্যায়ে ১৩ জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে ৬৭,৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রতি ধাপে ১০,০০০ পরিবার বৃদ্ধি করে জুন ২০২৬ এর মধ্যে ৪০,০০০ দরিদ্র পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতাভুক্ত করা হবে।
ভাতা প্রদান হবে মাসিক ২,৫০০ টাকা, যা সরাসরি সুবিধাভোগীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে পাঠানো হবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যতে খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষি ভর্তুকি সহ সকল সরকারি সহায়তা একক প্লাটফর্মে প্রদান করা হবে।
মন্ত্রী জানান, সুবিধাভোগীদের তথ্য যাচাই-বাছাই ও লাইভ ভেরিফিকেশন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডে QR কোড থাকবে। উদ্বোধন ১০ মার্চ ২০২৬ এবং প্রথম মাসের নগদ সহায়তা সরাসরি পরিবারে পৌঁছে যাবে।
ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা অনিয়মের জন্য একটি নিবেদিত হটলাইন চালু হবে। আপাতত বিদ্যমান চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮, ওয়েবসাইট ও ৩৩৩ হেল্পলাইন মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাবে। প্রশাসন অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং প্রতি মাসে স্থানীয় পর্যায়ে গণশুনানি ও সামাজিক নিরীক্ষা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সকল নাগরিককে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং দরিদ্র পরিবারের খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্বাবলম্বীকরণের সুযোগ নিশ্চিত করবে। এটি একটি মানবিক, তথ্যনির্ভর ও জবাবদিহিতামূলক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা হবে।